
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: চলন্ত ট্রেনের হুইসেল বাজছিল। চারপাশের শত শত মানুষের হুড়োহুড়ি আর ব্যস্ততা। এর মধ্যেই চোখের পলকে ঘটে গেল এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা। অসাবধানতাবশত ছয় বছরের সন্তানকে প্ল্যাটফর্মে ফেলে রেখে ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন এক মা।
তবে বড় কোনো বিপদ ঘটার আগেই ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের দ্রুত তৎপরতায় নিজের সন্তানকে ফিরে পান দিশেহারা ওই মা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৮টার দিকে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে এই আবেগঘন ঘটনাটি ঘটে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানান, সকালে কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশনে এসে থামে। বরাবরের মতোই যাত্রীদের ওঠা-নামার সময় স্টেশনে প্রচণ্ড ভিড় ও হুড়োহুড়ি তৈরি হয়। ওই ভিড়ের মধ্যে এক নারী যাত্রী নিজের ছয় বছর বয়সি শিশু সন্তানকে প্ল্যাটফর্মে রেখেই তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে উঠে পড়েন। ট্রেনটি যখন ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই প্ল্যাটফর্মে একা দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটি ভয়ে ও আতঙ্কে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে।
প্ল্যাটফর্মে শিশুটির কান্নাকাটি দেখে দ্রুত এগিয়ে যান সেখানে টহল ডিউটিতে থাকা আনসার সদস্যরা। পিসি মো. জয়নাল আবেদীন, এপিসি মো. ইমদাদুল হক এবং আনসার সদস্য শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
এ সময় ট্রেনটি ছেড়ে দিলে শিশুটির অভিভাবক খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে বুঝতে পেরে তারা সময় নষ্ট না করে প্ল্যাটফর্মে এবং ট্রেনের বগিগুলোর সামনে দ্রুত ছুটে যান। প্রত্যেকে উচ্চকণ্ঠে মাইকিং করে শিশুটির অভিভাবকের সন্ধান করতে থাকেন।
আনসার সদস্যদের এই তৎপরতার মধ্যেই ট্রেনের ভেতরে সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মায়ের সন্ধান মেলে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আনসার সদস্যরা সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন। সন্তানকে বুকে ফিরে পেয়ে ওই মা আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উপস্থিত যাত্রীরা জানান, আনসার সদস্যরা যদি মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে মাইকিং না করতেন, তবে ট্রেনটি ছেড়ে দিলে হয়ত শিশুটিকে মা হারিয়েই ফেলতেন। আনসার সদস্যদের এই মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন স্টেশনে থাকা সাধারণ যাত্রীরা। শিশুটির পরিবারও আনসার বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।




