

জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের একদিন পর প্রতিবেশীর বাসার ওয়্যারড্রোব থেকে তিন বছর বয়সী শিশু সাহালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার পঞ্চবটী এলাকার দীন মোহাম্মদের বাসার ভাড়াটিয়া হাসান মিয়ার বাসা থেকে শিশু সাহালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকার কাতার প্রবাসী বাবুল মিয়ার ছেলে।
নিহত শিশুর মাসহ এ ঘটনায় জড়িত অপর একজনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বছরের শুরুর দিকে বাবুল মিয়া বিদেশ যাওয়ার পর তার স্ত্রী ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। একই বিল্ডিংয়ের পাশের কক্ষে থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার বড়তল্লা গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হাসান মিয়া (৩৪)। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তার কক্ষের ওয়্যারড্রোব থেকে শিশু সাহালের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শিশু সাহাল নিখোঁজ হলে তার মা মোমেনা বেগম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ভৈরব থানা-পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য দীন মোহাম্মদের বাসায় গেলে হাসান মিয়ার কক্ষটি বন্ধ পায়। পরে তার ফোন নম্বরে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ খোঁজাখুঁজি করে। এরপর ওয়্যারড্রোবের নিচে সাহালের জুতা দেখতে পায়। সেই সূত্র ধরে একপর্যায়ে ওয়্যারড্রোবে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় সাহালের মরদেহ।
এরপরই বাসার ভাড়াটিয়া হাসানকে খোঁজার চেষ্টা শুরু করে পুলিশ। পরে সকালেই পঞ্চবটী এলাকার একটি বাসা থেকে হাসানকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তিনি।
আটক হাসান আশুগঞ্জ উপজেলার বড়তল্লা গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে।
ভৈরব থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীন বলেন, যে বাসার ওয়্যারড্রোব থেকে শিশু মরদেহ উদ্ধার করি সে বাসার ভাড়াটিয়া হাসানকে আটক করা হয়েছে। শিশুটির মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিছু আলামতের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়ার ঘরের তালা ভেঙে তল্লাশি চালিয়ে তার বাসার আলমারিতে শিশুটির মরদেহ পাই।
ওসি আরও বলেন, কী কারণে শিশুটিতে হত্যা করা হয়েছে সেটি তদন্ত করছি। পরে তদন্ত সাপেক্ষে আপনাদের হত্যাকাণ্ডের মূল বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারব।




