বাউল মতবাদ ও তাদের কুফরী আকিদা

✍️এক্টিভিষ্ট লেখক ও গবেষক: মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী হাফিজাহুল্লাহ

ভূমিকা:বাউল মতবাদ গড়ে উঠেছে কামাচার এবং মিথুনাত্মক যোগ-সাধনাকে (Erotic love) কেন্দ্র করে।
ভাষাগত ভাবে বাউল এটা আরবী/ফার্সি শব্দ ( ﺑَﻮْﻝٌ ) যার অর্থ হ’লো প্রস্রাব, নাপাক ও নিকৃষ্ট। আভিধানিক অর্থ- হলো পাগল, ক্ষ্যাপা বা উদাসীন। বাংলা একাডেমীর অভিধানে ”বাউল ”শব্দটির অর্থ করা হয়েছে–ধর্মীয় সাধক সম্প্রদায় বিশেষ একটি গায়ক সম্প্রদায় , সঙ্গীতের সূর বিশেষ পাগল ক্ষ্যাপা।

★লক্ষ্যণীয়: অর্থের সাথে তাদের অনেকটা মিলও পাওয়া যায়।
তাই যারা বাউল হয় তারা নাপাক ও নিকৃষ্ট হয়।এরা যেনা, ব্যভিচার ও অবাধ মেলামেশায় মত্ত থাকে।বর্তমানে পালা ও বাউল গান নাম দিয়ে যেভাবে গান করানো হয়।এটা ভন্ডামী মাত্র।কারণ ১২ বছরের বয়স থেকে ২৫ বছরের ৪ থেকে ৮ ও ১০ জন মেয়ে শিল্পী নিয়ে ওরশ মাহফিলের নামে যে ভাবে গান করানো হয়,এটাকে ভেরাটে যাত্রা বলা চলে।যে গান শুনলে নফস আম্মারা সক্রিয় হয়ে উঠে তা হারাম।কিছু সংখক বস্তুবাদি পীর তার কিছু বস্তুবাদি শিষ্য দ্বারা “ওরশ মাহফিল”নামে এসব কাজ করে থাকেন। তাদের জন্য হক্কানি আলেম ও পীরদেরও বদনাম হয়, তাইতো মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমী বলেছেন-“ভ্রান্ত পীর বিষাক্ত সর্পের চেয়েও ভয়ংকর।আর বৈরাগী বাউল শয়তানের চাইতেও ভয়ংকর।শরীয়ত বহির্ভূত বিয়ে ছাড়া শাদির নামে কতশত বিয়ে করে বাউল তা’ নিজেও জানেনা। বাস্তবেও দেখা যায় প্রতিটি গানের আসরে বাউল শিল্পীরা তাদের মধুমক্ষিকা মেয়ে শিল্পী নিয়ে রাত্রি যাপন করে। এর প্রামাণ্য রেফারেন্স দেওয়া হ’লো। নর নারীর মিলন যাকে ইংরেজীতেঃ SEXO-YOGIC PRACTICE বলা হয়ে থাকে, এখানেই তাদের সাধনা আবর্তিত। অপর পক্ষে লালন শাহ, পান্জু শাহ, দুদ্দু শাহ প্রমুখ বাউল যুগল মিলন বা মিথুন ভিত্তিক যোগ নির্ভর সাধনা অতিক্রম করে দেহাতীতে পৌঁছবার সাধন করেছেন।

★বাউল মতবাদের কুফরি আকিদা:বাউল সাধনায় গুরুশ্রেষ্ঠকে ‘সাঁই’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাঁই তাদের বলে মাসিকের তিনদিন পরের রক্ত পান করো,আর আছে কাঁই বাবা যারা রজ:শ্রাবের প্রথম তিন দিনের কালো রক্ত পান করো। সাধনসঙ্গিনীকেও গুরু নামে অভিহিত করা হয়,মূলত,সাধনসঙ্গিনীর সক্রিয় সাহায্য ব্যতীত সাধনায় সিদ্ধী লাভ করা যায় না। তাই তাকে ‘চেতন গুরু’ বলা হয়। বাউলরা বিশ্বাস করে গুরুর কোন মৃত্যু নেই। তিনি কেবল দেহরক্ষা করতে পারেন। তিনি চিরঞ্জীবী। বাউলরা মন্দিরে কিংবা মসজিদে যায়না। জুম্মার নামাজ, ঈদ এবং রোযাও পালন করেনা।

লালন বলে-
“আমি মন্দিরে পুজা দেব পড়ব নামাজ দিলকাবায়
মন্দির মসজিদে যেতে বলো না আমায়”

তারা তাদের সঙ্গিনীকে জায়নামাজ নামে অভিহিত করে। বাউলরা মৃতদেহকে পোড়ায়না। এদের জানাজাও হয়না। হিন্দু মুসলমান নামের সব বাউলদের মধ্যেই এই রীতি। এরা সামাজিক বিবাহ বন্ধনকেও অস্বীকার করে। নারী-পুরুষের একত্রে অবাধ মেলামেশা এবং বসবাসকে দর্শন হিসেবে অনুসরণ করে।
সূত্র:-বা.বা: পৃঃ ১৫-১৭।

“আমরা বাউল। আমাদের ধর্ম আলাদা। আমরা না মুসলমান না হিন্দু। আমাদের নবী সাঁইজি লালন শাহ। কিন্তু উক্ত অধ্যাপক আমাদের এই তীর্থ ভূমিতে ঢুকে কোরআন তেলোয়াত করেন,ইসলামের কথা বলেন – এসবই আমাদের তীর্থ ভূমিতে আপত্তিকর
সূত্র:- লালন শাহ জীবন ও গান; এস এম লুৎফর রহমান; পৃ-১০৭,১০৮।

“আমরা আলাদা একটি জাতি, “আমাদের কালেমাও আলাদা – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ।
সূত্র:- ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, সুধীর চক্রবর্তী, ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫॥

তাদের শব্দ চয়ন অমাবস্যা মানে নারীর ঋতুকাল, বাঁকানদী মানে স্ত্রী যোনী,কুমীর মানে কাম,লতা মানে সন্তান,চন্দ্রসাধন মানে মল মূত্র পান।
সূত্র:-গভীর নির্জন পথে, সুধীর চক্রবর্তী, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১৪।

“কালী কৃষ্ণ গড খোদা
কোন নামে নাহি বাধা।
মন কালী কৃষ্ণ গড খোদা বলো রে।”
সূত্র:- বাউলতত্ত্ব পৃঃ ৫৩-৫৪।

★পরিশেষে বলবো:ইসলামের বেশ ব্যবহার করে একদল লোক ইসলামের দিকেই আঙুল তোলে, আলিমদের সাথে দ্রোহ করে, কুরআন-হাদিসকে কাল্পনিক গালগল্প আকারে তুলে ধরে তখন আমাদের করণীয় কী হওয়া উচিৎ? মানব ধর্ম তো দূরে থাক, এটি কি কোনো ধর্মেরই স্বরূপ হতে পারে? আসলে ধর্ম ব্যবসায়ী কারা?

ইমামরা বাউলদের মাজার পূজা, পীর পূজা, অবাধ যৌনাচার, দায়িত্বহীন বৈরাগ্য এবং হারাম প্রকৃতির গান-বাদ্যের মাধ্যমে তার প্রচার প্রসারে বাঁধা দেয় দেখে ইমামদের তারা কট্টর, ভুল ব্যাখ্যা দানকারী এবং মানব ধর্ম বিরোধী প্রমাণের চেষ্টা করে। অথচ বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের কাজ-কর্মকে হারাম বলার কারণে ৩০০০টাকায় দায়িত্বরত মসজিদের গরীব মুয়াজ্জিনকে তারা গালমন্দ করে, ধর্ম ব্যবসায়ী বলে। অথচ ৩০০০ টাকায় একজন “ব্যবসায়ী” কিভাবে সারা মাস চলে সে প্রশ্ন জাগে না। এদিকে দিনের পর দিন তারা মাজারে সিন্নি খাচ্ছে, পৈতা-তাবিজ বিক্রি করছে, গুরুর কবর সিজদা করার জন্য হাদিয়া নিচ্ছে, বল্গাহীন নারীভোগ দ্বারা সিদ্ধি লাভ করতে চাইছে, কুসংস্কার-ভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, নিজেকে খোদা মনে করছে এবং দাবি করছে তারাই প্রকৃত আধ্যাত্মিক ইসলামের ধারক ও বাহক!
আল্লাহ তাআলা যেন তাদের কে হেদায়েত দান করেন এবং সকল মুসলমান গন এদের থেকে দূরে থাকুন আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের কে হেফাজত করেন আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button