টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধ, সশস্ত্র গ্রুপের ৫০ সদস্য আটক

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার: মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। দুপক্ষের এই লড়াইয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

এছাড়া প্রাণভয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় আরসাসহ বিভিন্ন স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫০ সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। এ সময় আরও দুই রোহিঙ্গা কাঁকড়া শিকারিকে আটক করা হয়।

হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নাফ নদের বিলাইছরি ও হাসরদ্বীপে ধোঁয়ার কুন্ডলী। স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী ও উখিয়া টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত থেকে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। সকালের দিকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় আরকান আর্মি। হামলায় টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পিছু হটলে আরকান আর্মি তাদের তাড়া করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বেড়িবাঁধ পর্যন্ত চলে আসে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।

আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে লম্বাবিল এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খেলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে হুজাইফা সুলতানা আফনান নামের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। সে স্থানীয় হাজি মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

আহত শিশুর বাবা জসিম উদ্দিন জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে হুজাইফা বাড়ির সামনে খেলছিল। হঠাৎ আরকান আর্মি বেড়িবাঁধের ওপর থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আমার মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার কান বরাবর গুলি লাগে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, হুজাইফা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেঁচে আছে।

এদিকে সীমান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫০ সদস্যকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ ৫০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত আরসা ও আরাকান আর্মির মধ্যে প্রচুর গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে আরসার সদস্যরা আরাকান আর্মির তাড়া খেয়ে এ পারে চলে আসে। আমরা আতঙ্কে আছি।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র জানান, আরসাসহ ৫০ স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button