শেরপুরে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা সম্পন্ন: রোয়া বিলে হাজারো মানুষের মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর শেরপুর পৌরসভার নবীনগর মহল্লার রোয়া বিলে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে প্রায় দুইশত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘পৌষ মেলা’। শুক্রবার ও শনিবার (৯ ও ১০ জানুয়ারি) দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমান।

প্রতি বছর বোরো আবাদের আগে পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্থানীয়রা এই মেলার আয়োজন করে আসছেন। মেলাকে কেন্দ্র করে নবীনগরসহ আশপাশের এলাকায় বইছে উৎসবের আমেজ।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার মুড়কি-মুড়ি, মোয়া, নিমকি, গজা, তিলের খাজা ও কটকটির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। এছাড়াও ছিল মাটির তৈরি খেলনা, নারীদের প্রসাধনী এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী পণ্য। মাটির জিনিসপত্র নিয়ে আসা দোকানি সুরঞ্জন পাল জানান, অল্প সময়ে মেলায় বেশ ভালো বেচাকেনা হয়েছে।

এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও গাঙ্গি খেলা। এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে সাইকেল রেস এবং নারীদের জন্য মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো বৈচিত্র্যময় প্রতিযোগিতা। ২০ বছর ধরে ঘোড়দৌড়ে অংশ নেওয়া জামালপুরের আব্দুস ছামাদ এবার তার নাতিকে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয় মেলা উদযাপন কমিটি।

পৌষ মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসীর বাড়িতে বাড়িতে চলছে নতুন আমন ধানের চালের পিঠা-পায়েশ খাওয়ার ধুম। মেলা দেখতে ও পিঠা খেতে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনরা এসে ভিড় জমিয়েছেন। ঢাকা থেকে আসা সুইটি আক্তার বলেন, “বাবার বাড়ির এই মেলায় প্রতি বছরই পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসি। ঐতিহ্যের এই আয়োজন আমাদের খুব আনন্দ দেয়।”

শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, “বাবা-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। আগামীতে কমিটি গঠনের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে এই মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

আয়োজক কমিটির সভাপতি পারভেজ আহম্মেদ জানান, দুইশ বছর ধরে চলে আসা এই মেলাটি শেরপুরের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী বছরগুলোতে এর জৌলুস আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button