

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ: আশার আলো দেখিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর ওপর শুরু হয়েছিল কালনা-বিষ্ণুপুর সেতু নির্মাণের কাজ। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ আজও অসম্পন্ন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কেবল বেড়েছে মানুষের হতাশা আর দুর্ভোগ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে ওই এলাকায় বসবাসরত লাখো মানুষ।
নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২৬২ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের জুন মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২৯ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি পায় আইসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সেতুর মাত্র ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতু এলাকায় কোনো শ্রমিক নেই। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু নির্মাণ সামগ্রী। সাতটি স্প্যানের মধ্যে নদীর দুপাশে পাঁচটি স্প্যান করা হলেও মাঝের অংশ ফাঁকা। ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখে ‘লাপাত্তা’ থাকায় উপজেলার হাতুড় ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নিতে ১২-১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়।
স্কুল শিক্ষার্থী মনিষা আক্তারের মতে, নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের কারণে অনেক সময় সঠিক সময়ে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় না।
কৃষক আব্দুল গণি জানান, সেতুটি না হওয়ায় উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সিহাব হোসেন আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে জানান, পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, মহাদেবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাস বলেন, বারবার তাগাদা দিয়েও কাজে গতি আসেনি। প্রয়োজনে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করার আশ্বাস দেন তিনি।




