

ধর্ম ডেস্ক, নজরবিডি।
শাবান মাসের ১৫ তারিখ বা শবে বরাতকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে বিশেষ ইবাদত, নফল রোজা ও নির্দিষ্ট আমলের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।
তবে এই নির্দিষ্ট রাত বা দিনের ইবাদত নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন থাকে। সহিহ হাদিস ও আলেমদের মতামতের আলোকে এর প্রকৃত বিধান নিচে তুলে ধরা হলো:
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে সহিহ সূত্রে ১৫ শাবানের রাতে বিশেষ কোনো পদ্ধতি বা নিয়মে নামাজ পড়ার নির্দেশনা প্রমাণিত নয়।
নিয়ম: অন্যসব নফল নামাজের মতোই এই রাতে নফল নামাজ পড়া যেতে পারে।
সতর্কতা: এই রাতের জন্য আলাদা কোনো নিয়ত বা বিশেষ রাকাত সংখ্যা (যেমন নির্দিষ্ট সুরা দিয়ে পড়া) সাব্যস্ত করা বিদয়াত হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, রাসুল (সা.) এমন কোনো নিয়ম বর্ণনা করেননি।
কেবল ১৫ শাবান বা শবে বরাত উপলক্ষে আলাদা একটি রোজার কোনো শক্ত দলিল সহিহ হাদিসে নেই। তবে দুটি ক্ষেত্রে রোজা রাখা যেতে পারে:
শাবান মাসের সাধারণ আমল: রাসুল (সা.) শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন। তাই এই মাসে বেশি বেশি রোজা রাখা সুন্নত।
আইয়ামে বীজের রোজা: প্রতি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখা মুস্তাহাব। সেই হিসেবে ১৫ শাবানের রোজাটি আইয়ামে বীজের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে রাখা যেতে পারে।
রাসুল (সা.) শাবান মাসকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)-এর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন:
“এটি এমন একটি মাস যার প্রতি মানুষ সাধারণত উদাসীন থাকে। এই মাসেই বান্দার সব আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই আমি চাই, আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ হোক যখন আমি রোজাদার থাকি।” (নাসাঈ, মিশকাত)
করণীয়: আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা, তওবা করা, কুরআন তিলাওয়াত এবং রমজান পর্যন্ত সুস্থভাবে পৌঁছানোর তাওফিক চাওয়া।
বর্জনীয়: শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আলোকসজ্জা, আতশবাজি, হালুয়া-রুটির আনুষ্ঠানিকতা বা কবরে মোমবাতি জ্বালানোর মতো কুসংস্কার বর্জন করা উচিত।
শাবান মাসে সাধ্যমতো নফল রোজা রাখা উত্তম, তবে পুরো মাস টানা রোজা রাখা শরয়তসম্মত নয়। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং আত্মশুদ্ধি।




