

জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের মোটরসাইকেলসহ আরও দুটি ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকরা আগে থেকেই সভাস্থলে আসন গ্রহণ করেছিলেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সাহা জানান, ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যার মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল তার দাবি, জামায়াত কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং তাদের হামলায় অনেক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “যৌথ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।




