

মোঃ পাপেল মিয়া, জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আগামী কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বে বর্তমান ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ হারুনকে দেখতে চায় তৃণমূলের একটি বড় অংশ। দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা এবং নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে তাঁর প্রতি এই সমর্থনের দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হারুনুর রশিদ হারুন। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরে ঘোষিত বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি মতিঝিল থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও একজন সাবেক কমিশনার হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে তিনি কর্মীদের জন্য আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমানে মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি তৃণমূলের ভাষা বোঝেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণের একজন নেতা বলেন, “হারুন ভাই দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণের রাজনীতিতে সক্রিয়। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। আমরা চাই আগামী পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাঁকে সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হোক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হারুনুর রশিদ হারুন কেবল রাজপথের লড়াকু সৈনিক নন, বরং সাংগঠনিকভাবেও বেশ দক্ষ। ঢাকা দক্ষিণের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলা ও হামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা ও ব্যক্তিগত খোঁজখবর রাখার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে।
আগামীতে বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের আভাস পাওয়া গেছে দলটির হাইকমান্ড থেকে। এই প্রেক্ষাপটে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে হারুনুর রশিদ হারুন শীর্ষ পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। তাঁদের বিশ্বাস, হারুনকে শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তৃণমূলের দাবি প্রসঙ্গে হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের অনুপ্রেরণায় আমি রাজপথে লড়াই করছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে ভালোবাসেন, কারণ আমি সবসময় তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করা। দল আমাকে যে দায়িত্বই দেবে, আমি তা পালনে প্রস্তুত। পদ-পদবির চেয়ে বড় বিষয় হলো রাজপথে থেকে আন্দোলন সফল করা। আগামী দিনের কমিটিতে কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আমাদের অভিভাবক তারেক রহমান এবং দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”




