
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও কিউবাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছেন। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের এই দেশটির সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ‘খুব বেশি নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রো পছন্ত ‘একটি কূটনৈতিক সমাধান’। তবে যে কোনো ‘হুমকি’ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার ও বাধ্যবাধকতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে রুবিওর এই মন্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় রদ্রিগুয়েজ বলেছেন, কিউবা কখনও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় রুবিও কিউবাকে ‘পুরো আমেরিকা অঞ্চলের সন্ত্রাসের অন্যতম নেতৃস্থানীয় পৃষ্ঠপোষক’ উল্লেখ করে রুবিও বলেন, “কিউবার সঙ্গে কূটনীতিই আমাদের প্রথম পছন্দ; কিন্তু আমি যদি আপনাদের কাছে সত্যিটা বলতে চাই— সেক্ষেত্রে আমি বলব, (কিউবায়) বর্তমানে আমরা যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নেই।
এদিকে সংবাদমাধ্যমে রুবিওর এই সাক্ষাৎকার প্রচারের অল্প সময়ের মধ্যেই কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ এক এক্সপোস্টে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিরুদ্ধে ‘সামরিক আগ্রাস উস্কে দিচ্ছেন। কিউবায় যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘নিষ্ঠুর ও পদ্ধতিগত হামলা’ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও এক্সপোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি তেল কিনতে কিউবা। গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ ঘাটতি ও খাদ্য সংকট দিন দিন তীব্র রূপ নিচ্ছে দেশটিতে।
রুবিও অবশ্য বলেছেন যে সম্প্রতি কিউবাকে ১০ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন এবং কিউবা তা গ্রহণ করেছে।
এদিকে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি শহরের আদালতে।
বৃহস্পতিবার মত বিনিময়কালে সাংবাদিকরা রুবিওকে প্রশ্ন করেন, রাউল ক্যাস্ত্রোকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনবে কি-না এবং যদি আনে, তাহলে কীভাবে আনবে।
জবাবে রুবিও বলেন, “কীভাবে তাকে আমরা আনব— সে ব্যাপারে আমি কিছু বলব না। যদি আমরা সত্যিই তাকে এখানে আনার চেষ্টা করি, সেক্ষেত্রে আমাদের পরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমকে আমি কেন জানাব?”
সূত্র : বিবিসি




