
জেলা প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ: ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বেজগাঁও এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বাসিন্দা মো. আবদুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ঈদের দিন ভোরে তিনি মারা যান। তার মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, মাওয়ামুখী অ্যাম্বুলেন্সটি বেজগাঁও এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ সেটির পেছনের একটি চাকা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে অ্যাম্বুলেন্সটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সটিতে চালক ও ১০ জন যাত্রীসহ মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন, পিয়ারা বেগম (৬৫), মমতাজ বেগম (৬০), জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৮), জেসমিন (৩০), জাহেদ (১৫), মনির (৫০)।
খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে। আহত ৬ জনকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা বাকি ৫ আরোহী অক্ষত ও সুস্থ আছেন বলে ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে একটি লাশ নিয়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে যাওয়ার পথে শ্রীনগরের মাওয়ামুখী লেনে অ্যাম্বুলেন্সটির পিছনের চাকা পাঞ্চার হয়ে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।
তিনি আরও জানান, অ্যাম্বুলেন্সটিতে চালক ও ১০ জন যাত্রী ছিলেন। এ সময় গাড়িতে আব্দুল জলিল (৭৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহও ছিল।
দুর্ঘটনাকবলিত যানটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ায় এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।




