লন্ডনের ক্লিনিকে এখনও পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়া

নিজেস্ব প্রতিবেদক: লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা হঠাৎ কিছুটা অবনতি হয়েছে। দ্য লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে এলেই তবে লিভার প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এমন তথ্য জানিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য লন্ডন থেকে বলেন, খালেদা জিয়ার হার্টে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। যদিও এতে উদ্বেগের কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সময় লাগছে। লন্ডনে প্রচণ্ড ঠান্ডা চলছে। গত দুই দিন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। স্বাস্থ্যের কয়েকটি প্যারামিটার ফল করেছে। নতুন করে হার্টের কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ড এটা নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। খালেদা জিয়ার ফিটনেস (শারীরিক সক্ষমতা) বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার লন্ডন ক্লিনিকের সামনে ব্রিফিংকালে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত সব পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার পরই ‘লিভার প্রতিস্থাপনের’ সিদ্ধান্ত নেবে মেডিকেল বোর্ড।

ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, তার বয়স এখন ৭৯ বছর। এ কারণে আদৌ ‘লিভার প্রতিস্থাপন’ করার মতো শারীরিক অবস্থায় তিনি আছেন কিনা বা কীভাবে করলে ভালো ফল মিলবে, সেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত বিচার-বিশ্লেষণের সময় এখনও আসেনি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অতি দ্রুত যেসব পরিবর্তন আনা দরকার, সেগুলোই চিকিৎসকরা বিবেচনায় নিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দ্য লন্ডন ক্লিনিকের লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বে ছয় থেকে সাতজনের একটি মেডিকেল টিম রয়েছে। তারা আমাদের মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে বসেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আলোচনা করছেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে শুক্রবার একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। হার্ট, কিডনি, আর্থ্রাইটিস, লিভার ও ডায়াবেটিস–বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় জর্জরিত খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ৮ জানুয়ারি লন্ডনে আসেন। এদিন স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তাকে সরাসরি দ্য লন্ডন ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button