শিরকি গান…

★শিরকি গান…
প্রারম্ভ: বাদ্যযন্ত্র যুক্ত সকল কথার গান কোরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্ট হারাম। এই সব হারাম গানের মধ্যে যেগুলো সব চেয়ে ভয়ংকর প্রচলিত গান যেগুলো শিরক কিন্তু আমরা তা জানি না,অনেকে জেনেও আমরা এই গান গুলো শুনি নাউজুবিল্লাহ…

অ্যাক্টিভিষ্ট| লেখক| গবেষক|
✍️ মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী।

১★”আখির ওয়াহি কিয়ে সাজদে যাহা সার ঝুকানা মানা থা” – গান বা কবিতার এই লাইনটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে, যেখানে মাথা নত করা নিষিদ্ধ ছিল বা বারণ ছিল,শেষ পর্যন্ত সেখানেই মাথা নত (সিজদা) করা হলো।এটি সাধারণত কোনো মানুষের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা বা ভক্তির ক্ষেত্রে ভুলবশত সিজদা করে ফেলার কথা বলে।

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ: ইসলামে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা দেব-দেবীকে সিজদা করা বা মাথা নত করা শিরক বা অংশীদারিত্বের শামিল।এটি সম্পূর্ণরূপে হারাম এবং কবীরা গুনাহ।সিজদা কেবল একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট।

শিরক: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সামনে সিজদা করা শিরক।

হুকুম: ইবাদত বা সম্মান—যে কারণেই হোক, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা বৈধ নয়।

মূল কথা: কোনো সৃষ্টিকে স্রষ্টার সমকক্ষ জ্ঞান করে বা সম্মানে সিজদা করা ইসলামের আকিদা পরিপন্থী।

২★”তুঝমে রাব দেখতা হ্যায়” (Tujh Mein Rab Dikhta Hai) গানটির লিরিক্স বা কথাগুলোর মধ্যে স্পষ্ট ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিরকের উপাদান রয়েছে। গানটির মূল অর্থ হলো, “তোমার মাঝে আমি ঈশ্বরকে (রব) দেখতে পাই এবং তোমার সামনে আমার মাথা সেজদায় নত হয়ে আসে।”

৩★”ম্যায় দুনিয়া ভর কি তারিফেঁ তেরে সাজদে মে লায়া হুঁ”ম্যায় তুমসে ইশক করনে কি ইজাজত রব সে লায়া হুঁ” এই গানটি স্পষ্ট শিরিক।
অনুবাদ:”আমি সারা পৃথিবীর সমস্ত প্রশংসা তোমার চরণে (সেজদায়) উৎসর্গ করতে এনেছি,আমি তোমার সাথে প্রেম করার অনুমতি স্বয়ং ঈশ্বরের (রব) কাছ থেকে নিয়ে এসেছি।”

৪★”বেলতলী সোলেমান ল্যাংটা,দোহাই ল্যাংটা, দোহাই ল্যাংটা,কাটাকেল্লা কাটাকেল্লা,কেল্লায় করে আল্লাহ আল্লাহ”

★ইসলামিক শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে…”বেলতলী সোলেমান লেংটা, দোহাই লেংটা” গানের এই বক্তব্যগুলো স্পষ্ট শিরিক এবং কুফরির অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামের মূল বিশ্বাস বা আকীদার সাথে এটি কেন সাংঘর্ষিক, তার মূল কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

১/আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও “দোহাই”দেওয়া শিরক।

২/শরিয়তের বিধান:কোনো মৃত ব্যক্তি, পীর বা অলির নামে “দোহাই” দেওয়া বা তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা ‘শিরকে আকবর’ বা বড় শিরিক। কারণ মহাশক্তি ও অলৌকিক সাহায্যের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা।

৫★”আমি জানলে কি আর করতাম গুনাহ বাবা মাওলানা,
না জানিয়া ভুল করেছি ক্ষমা করো না।”

★শরিয়তের দৃষ্টিকোন…
পীরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা: ইসলামে সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কারও কাছে গুনাহ বা পাপের ক্ষমা চাওয়ার বিধান নেই। এই গানে “বাবা মাওলানা” বা পীরের কাছে যে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে, আলেমদের মতে তা শিরকের (আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করার) অন্তর্ভুক্ত।

৬★”খাদেম রমেশের বাণী প্রাণ দিয়েছি পীর কদমে যা করেন তিনি” এই গানের কথা স্পষ্ট শিরিক।

★শরিয়তের দৃষ্টিকোন:
একচ্ছত্র ইবাদত আল্লাহর: ইসলাম অনুযায়ী জীবন ও মরণ একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত।পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,”আমার সালাত, আমার কোরবানি,আমার জীবন ও আমার মরণ একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।” (সূরা আন-আম: ১৬২)। পীরের পায়ে প্রাণ দেওয়ার কথা বলা এই আদেশের পরিপন্থী।

★আসুন কোরআন হাদিস কি বলে একটু দেখি…দালিল,দালিল

🔰আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاءُ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا

👉 “নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর সাথে শিরকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আর ইহা ব্যতীত যাকে ইচ্ছা (তার অন্যান্য অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।”*
(সূরা আন-নিসা ৪:৪৮)

📖 হাদিসের বর্ণিত আছে “যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কিছু শরিক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কিছু শরিক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”
(মুসলিম-৯৩)

🔰কুরআনে আল্লাহ বলেন,
وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشَّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ

👉যখন লোকমান তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বললেনঃ হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে শিরক করনা; কেননা শিরক সবচেয়ে বড় অন্যায় ”
(সূরা লোকমান ৩১:১৩ )।

📖আল্লাহ তা’য়ালা বলেন…
إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ

👉 “নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।”
(সূরা মায়িদাহ-৫:৭২)

📖আল্লাহ তা’আলা তার প্রিয় নাবীকে সাবধান করে বলেন…

وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

👉 “আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে,যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদেরএকজন হবেন। (সূরা যুমার-৩৯:৬৫)

👉 সুতরাং শিরক থেকে সাবধান, শিরক থেকে সাবধান, শিরক থেকে সাবধান। হে আল্লাহ, হে বিশ্বজগতের পালনকর্তা আপনার কাছে আমরা যাবতীয় শিরক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমীন। ছুম্মা আমীন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button