
খুলনার ডুমুরিয়ায় পার্টনার (PARTNER) প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিএলআর ১.২-এর আওতায় উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষক পর্যায়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ডুমুরিয়া কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘উত্তম কৃষি চর্চা GAP সার্টিফিকেশন’ বিষয়ক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) মো: তৌহিদীন ভূইয়া। খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করেন। এছাড়াও প্রশিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলাম। দিনব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণে অঞ্চলের ৩০ জন নির্বাচিত কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান বিশ্বে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়; উৎপাদিত ফসল কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এমন ফসল উৎপাদন করতে চাই যা রাসায়নিক ও জীবাণুমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।”
ডুমুরিয়ার সবজি ও ফলমূলের দেশজোড়া সুনামের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “কৃষকরা যদি সঠিকভাবে GAP সার্টিফিকেশন লাভ করতে পারেন, তবে এই অঞ্চলের পণ্য খুব সহজেই ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এটি কৃষকদের ফসলের সঠিক মূল্য পেতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটাবে।” একই সাথে যত্রতত্র রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করে সুষম সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) মো: তৌহিদীন ভূইয়া বলেন, “সরকারের ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও লাভজনক করা। ডিএলআর ১.২-এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষিত করে তোলার এই উদ্যোগ ডুমুরিয়ার কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”
কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা শুধু ফসলের উৎপাদক নন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের পাহারাদার। মাঠ থেকে ভোক্তার পাত পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সততা ও সঠিক পদ্ধতি বজায় রাখুন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কেবল খাতায়-কলমে না রেখে, আগামীকাল থেকেই নিজের জমিতে প্রয়োগ করুন এবং ডুমুরিয়াকে নিরাপদ কৃষির মডেল হিসেবে গড়ে তুলুন।”
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন কৃষকদের প্র্যাকটিক্যাল বা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন। তিনি বলেন, “মুখে শোনার চেয়ে নিজের চোখে দেখলে এবং নিজে হাতে করলে বিষয়টি সারাজীবন মনে থাকবে। উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) কোনো কঠিন বিষয় নয়, এটি হলো নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মাটিতে কখন, কতটুকু সার দেবেন, পোকা দমনে কখন বিষমুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করবেন, কীটনাশক দেওয়ার কতদিন পর ফসল তুলবেন এবং কীভাবে আধুনিক কিউআর (QR) কোড তৈরি করে পণ্যের গায়ে ব্যবহার করবেন—এগুলো আজ আপনাদের নিজে হাতে করে দেখালাম। আপনারা যদি এই নিয়মগুলো মাঠে সঠিকভাবে মানেন, তবেই আপনাদের ফসল ‘নিরাপদ ফসল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং GAP সার্টিফিকেট পাবেন। এই সার্টিফিকেট থাকলে আপনাদের উৎপাদিত ফসল দেশের বড় বড় সুপারশপসহ বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদনে ডুমুরিয়া অঞ্চলের কৃষকদের এই ধরনের আধুনিক ও প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।




