সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরাক থেকে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। দুই ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরাকের জুম্মার শহর থেকে কমপক্ষে পাঁচটি রকেট ছোড়া হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী জর্ডানে তিন মার্কিন সৈন্যকে হত্যার পর রোববার প্রথম বারের মতো ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটল।

সর্বশেষ এই হামলার বর্ণনা দিয়ে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র এবং এক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, একটি রকেট লঞ্চারসহ একটি ছোট ট্রাক সিরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর জুম্মারে পার্ক করা হয়েছিল।

সামরিক কর্মকর্তা বলেন, সে সময় আকাশে যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল। ঠিক একই সময় রকেটের বিস্ফোরণে ট্রাকে আগুন ধরে যায়। তারা বলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ওই ট্রাকে বোমা ফেলা হয়েছিল কিনা তা তদন্ত না করে আমরা বলতে পাছি না।

কর্মকর্তা এই হামলাকে ‘ব্যর্থ রকেট আক্রমণ’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তবে রকেটগুলো ঘাঁটিতে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়েছে নাকি পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। ওই ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে কি না সে বিষয়টিও পরিষ্কার নয়।

সাম্প্রতি সময়ে ইরান এবং ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে ওই অঞ্চলে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি ইরানের হামলার জবাব হিসেবে তেহরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। যদিও ইরানের হামলার তুলনায় ইসরায়েলের হামলা খুবই ছোট আকারের ছিল এবং কয়েকটি ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। যদিও ইরান বলছে, কয়েকটি ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এগুলো তারা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন গণমাধ্যমের খবর সত্য নয়।

ইরানের চালানো হামলার জবাব দিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গত শনিবার ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তেহরানের ওই হামলার জবাব দেওয়া হবে এমনটা আগেই স্পষ্ট করেছিল তেল আবিব। পুরো সপ্তাহজুড়েই ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্র বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন দেশটির সরকারকে তাগিদ দিয়ে আসছিল যেন ইরানি হামলার জবাবে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালানো না হয়।

যদিও ইরানের হামলা রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কারণ ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো এ ধরনের হামলা চালিয়েছে তেহরান। কিন্তু সেটাও আসলে ছিল একটা প্রতিশোধ। গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।

এর আগে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক এবিসি নিউজ এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের একটি স্থানে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের ইসফাহান বিমানবন্দরে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button