

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার বৃহত্তম উপজেলা ডুমুরিয়াকে একটি আদর্শ ও জনবান্ধব ‘জিরো কমপ্লেইন’ (অভিযোগহীন) থানা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুলিশের সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো অসন্তোষ থাকবে না এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আমূল পরিবর্তিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪৫৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৯ জন মানুষের বসবাস। এক সময় চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এই জনপদে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। একজন সার্কেল অফিসারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এখানকার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে।
ডুমুরিয়া একসময় নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মনোরঞ্জন ঘোষাল ওরফে মৃণালের আধিপত্যের কারণে অস্থির ছিল। বিগত সরকারগুলোর আমলেও এখানে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ ছিল। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এই অঞ্চলকে উত্তপ্ত করে তোলে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডুমুরিয়া থানাকে এই বিশেষ মডেলের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ ইমরান বলেন, এটি হবে একটি আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা যেখানে জনগণের কোনো অভিযোগ থাকবে না।
যদিও ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশনা পাননি, তবে ৪টি স্থায়ী ও একটি অস্থায়ী ফাঁড়ির মাধ্যমে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।




