শরীয়তপুরে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি চলাচলের রাস্তা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ৮টি পরিবারের সদস্যরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, হাট-বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের দক্ষিণ হালইসার গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার প্রায় ২০ দিন আগে ওই চলাচলের রাস্তায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি প্রায় ১০০ বছর ধরে গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি ৮টি পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় তারা এখন চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া পুরোনো রাস্তাটি সম্পূর্ণ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সেটি কোনো সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা বেড়া। অথচ এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের পথ। রাস্তা বন্ধ থাকায় বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানান ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম বলেন, এই রাস্তাটি আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হঠাৎ করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। শিশুদের স্কুলে পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে, আর অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাস্তাটি খুলে দেওয়ার দাবি জানاي।
স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক সরদার বলেন, রাস্তাটি প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো। হঠাৎ করেই কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন বাজারে যাওয়া, মসজিদে নামাজ আদায়সহ দৈনন্দিন সব কাজেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, এখানে কোনো রাস্তা ছিল না। আমি আমার নিজস্ব জমিতে বেড়া দিয়েছি।
এ বিষয়ে ঘড়িসার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি সমাধান করতে বলেছিলাম। তবে স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব হয়নি। এখন উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দুই পক্ষকে বসিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করবো।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!