সোনালি আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিতেও আশার আলো দেখছেন মাগুরার পাটচাষিরা। পার্টিকেল বোর্ড তৈরিসহ বিভিন্ন কলকারখানায় পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ায় এটি এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
মাগুরার শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর তা শুকানো ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এর পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়া স্থানগুলোতে ভোর থেকেই আশপাশের গ্রামের গৃহিণীরা ভিড় করছেন। তারা চাষিদের পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে দিচ্ছেন এবং মজুরি হিসেবে নগদ টাকা না নিয়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় নারী শিউলী ও রহিমা বেগম জানান, বাড়ির জ্বালানির চাহিদা মেটাতে তারা কাজের বিনিময়ে নগদ অর্থের বদলে পাটকাঠি বেছে নিচ্ছেন। অন্যদিকে চাষি বিকুল ও বাবলু শেখ জানান, নগদ মজুরি না দিয়ে পাটকাঠি দেওয়ায় পাটের আঁশ ছাড়ানোর শ্রমিক খরচ অনেকটাই কমে গেছে এবং পাট চাষে বিনিয়োগের একটা অংশ এর মাধ্যমেই উঠে আসছে।
এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে প্রতি আঁটি পাটকাঠি ১০ থেকে ১২ টাকায় কিনে শহরে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করে ভালো লাভ করছেন। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাগুরার উপপরিচালক তাজুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে মাগুরায় ৩৪ হাজার ৮৮৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ অর্জিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির পাশাপাশি পাটকাঠি এখন কৃষকদের আর্থিকভাবে দারুণভাবে সহযোগিতা করছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!