ভুঁইফোঁড়, নিয়মিত অডিট না করা, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন না করা এবং সরকারি নিয়মকানুন না মানা অকার্যকর বাণিজ্য সংগঠনগুলোকে সুপ্ত ঘোষণা অথবা বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, সরকার ট্রেড অর্গানাইজেশন রুলস সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংশোধিত বিধিমালার মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত ট্রেড অর্গানাইজেশনগুলো ট্রেড লাইসেন্স পাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ‘দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির’ উদ্যোগে আয়োজিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নিজেদের অন্তঃকোন্দল বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে সেক্টরভিত্তিক উন্নয়নে কাজ করা উচিত। ট্রেড অর্গানাইজেশনগুলোর মূল দায়িত্ব হলো সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন খাতের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে তা সমাধান করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখা এবং নিয়মিত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমানে অনেক সংগঠন সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না।
নতুন বিধিমালার রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, এখন থেকে যেকোনো আঞ্চলিক চেম্বার প্রথমে ওই অঞ্চলের অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপগুলোর সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবে। সংশ্লিষ্ট সংগঠন সেই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক চেম্বারের মতামতের ভিত্তিতে বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগ বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান করবে। নতুন ট্রেড অর্গানাইজেশন রুলসেও এই বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান বাণিজ্য নগরী ও বিনিয়োগের হাব হিসেবে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, শতবর্ষী চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃত্বে অবিলম্বে একটি ‘চট্টগ্রাম ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ গঠন করা জরুরি। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও ব্যবসায়িক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরে বিনিয়োগবিষয়ক সামিট আয়োজন করা যেতে পারে, যেখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। এছাড়া ব্যবসা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে কোম্পানি আইন যুগোপযোগী করার কাজ চলছে বলেও তিনি জানান এবং এই আইনের খসড়ায় ব্যবসায়ীদের মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি বলেন, সঠিক ট্রেড অর্গানাইজেশন না থাকলে ব্যবসায়ীদের প্রকৃত সমস্যা সরকারের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব নির্বাচন না হওয়ার কারণে অনেক বাণিজ্য সংগঠন স্থবির হয়ে পড়েছিল, যার ফলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন বাণিজ্য বাধা দূর করা সম্ভব হয়নি এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সংগঠনগুলো যাতে সর্বদা সক্রিয় থাকে, সে জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের একযোগে কাজ করতে হবে। সরকার ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক সময় বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। তাই সরকারের যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আদতে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম. এ. ছালাম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, পরিচালক এস. এম. সাইফুল আলম, মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এম. এ. সালাম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি এ. এম. মাহবুব চৌধুরী, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মনছুর এবং সানম্যার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ আহসানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষনেতৃবৃন্দ।
এ সময় চেম্বারের সহসভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপনসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য পরিচালক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!