যশোরের সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ পদই বর্তমানে খালি রয়েছে।

পাশাপাশি অচল যন্ত্রপাতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগীর চাপের কারণে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা শহর কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল-সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, শার্শা, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১ হাজার ৩৯৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৪১ জন। খালি রয়েছে ৪৫৭টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের ২৮৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১২০টি পদই ফাঁকা রয়েছে, অর্থাৎ কর্মরত আছেন মাত্র ১৬৭ জন।

উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার এসব হাসপাতালে প্রতিনিয়ত ৯০ থেকে ১০০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন। চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন করা হলেও সেখানে কোনো স্থায়ী অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ও আল্ট্রাসোনোগ্রাম চালক নেই। মণিরামপুর ও অভয়নগরেও একই ধরনের চিকিৎসক ও কর্মী সংকট রয়েছে। অন্যদিকে ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে বা খণ্ডকালীন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক দিয়ে সপ্তাহে মাত্র ১-২ দিন অস্ত্রোপচার চালানো হচ্ছে।Keshabpur উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজি বিভাগ থাকলেও প্যাথলজিস্ট নেই এবং সেখানকার এক্স-রে ও আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন দীর্ঘ দিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, সীমিত জনবল ও বিকল যন্ত্রপাতি নিয়ে শয্যার চেয়ে দ্বিগুণ রোগীর সেবা সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, উপজেলাগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়লেও সে অনুযায়ী জনবল বৃদ্ধি পায়নি। অচল যন্ত্রপাতি মেরামত এবং শূন্য পদে নতুন চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই এ সংকটের সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।