সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ আতালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক রশিদ খানের অলরাউন্ড ঘূর্ণি জাদুতে এই দাপুটে জয় তুলে নেয় আফগানরা। এই জয়ের ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ফাইনাল নিশ্চিত করার সমীকরণ আরও জটিল ও কঠিন হয়ে দাঁড়াল।

শারজাহতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। গুরবাজ ২৫ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে জাদরান ও সেদিকুল্লাহ আতাল ১৪০ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে তোলেন। সেদিকুল্লাহ আতাল শতক হাঁকিয়ে ১০২ রানে থামেন এবং জাদরান ৯০ রানের এক কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষদিকে মাত্র ৩৫ রানে ৫টি উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ওভার শেষে ২৯৪ রানে অলআউট হয় আফগানরা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মাসুকু ও ব্র্যাড ইভান্স ৩টি করে উইকেট নেন।

২৯৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগান বোলিং তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার। মাত্র ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। পঞ্চম উইকেটে সিকান্দার রাজা (৪৮) ও রায়ান বার্ল (৩১) ৬৪ রানের একটি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও রশিদের স্পিন আক্রমণে ভেঙে পড়ে তাদের পুরো ব্যাটিং লাইনআপ। জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৮.৪ ওভারে মাত্র ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪টি উইকেট শিকার করেন।

এই ফলাফলের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াই উন্মুক্ত থাকলেও তা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে পিছিয়ে থাকা তাওহীদ হৃদয়ের দলকে ফাইনালে পৌঁছাতে হলে শেষ ম্যাচে শক্তিশালী আফগানিস্তানকে হারাতেই হবে, সেই সাথে নজর রাখতে হবে নেট রান রেটের সমীকরণের ওপর।