পানির সমস্যা দূর করতে ও দেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজশাহীতে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে এবং পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশের বড় দুটি নদী—পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ তৈরি করব। পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সাথে আমরা কথা বলব। বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায়ের জন্য যতদূর যাওয়া দরকার আমরা যাব। ইনশাআল্লাহ, আমরা পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু এবং শেষ করব।”
কৃষকদের কল্যাণে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, সরকার ৪ হাজারের কাছাকাছি আখচাষিকে প্রণোদনা দিয়েছে এবং সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে।
তিনি আরও ঘোষণা করেন, সরকার ‘ফার্মারস কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। চলতি বছরেই ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে বা সহজলভ্য করা হবে, পাশাপাশি ফসল বিমা ও সহজ ব্যাংক ঋণের সুবিধা মিলবে।
সেচ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের জন্য নদী-খাল পুনর্খননের পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে, যার মধ্যে গত আট মাসে ইতোমধ্যেই ৮০০ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে।
চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা ১৩০০ থেকে ২৫০০-এ উন্নীত করা হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি সরকার যখন বন্ধ কলকারখানা চালু, বেকারত্ব দূর ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে, তখন একটি বিশেষ মহল বা দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।