ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, “আমরা ভোট বর্জন করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। আমরা বলেছি ভোটটা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করার জন্য। এই নির্বাচনের পরেই কিন্তু আরেকটি স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনটা যদি মানুষকে গ্রহণযোগ্য করাতে হয়, তাহলে এই নির্বাচনটা স্বচ্ছ করাতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সদর উপজেলার দোয়ালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসারদের অনেকেরই আইডি কার্ড নেই। আবার যাঁদের আইডি কার্ড আছে, সেখানে ছবি নেই। আইডি কার্ড ও ছবি না থাকলে তো বুঝতে হবে তিনি আসলেই নির্বাচন কমিশন নিয়োগকৃত কর্মকর্তা কি না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি যে ২০ থেকে ২৫টি ব্যালট বইয়ে আগে থেকেই সিল মেরে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সিল আগে থেকে মারা থাকলে চোখের ইশারায় বিএনপির ভোটারদের ব্যালট পেপার ছিঁড়ে দেওয়া সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, দু-তিনটি ব্যালট পেপার দিয়ে ভোটারদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। জাল ভোট দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে ৫-৬ জন বিএনপি কর্মী ধরাও পড়েছে। কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ধানের শীষ প্রতীকসংবলিত গেঞ্জি পরে অবাধে বুথে প্রবেশ করে ভোট দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করেছি।”
জামায়াত প্রার্থী বলেন, “আমরা চেয়েছি একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন, যেন এই সরকারের আমলে কোনো বিতর্কিত বা কারচুপির নির্বাচন না হয়। সারা দেশে একটিমাত্র আসনে নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল, তা নেয়নি।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয় এবং আজ এ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে।