টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়িতে চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধা জালেমন বেগম (৭৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার তিন মাস পর নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা থেকে মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার শাহ আলম শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার বানিয়াপাড়া এলাকার আবদুল করিমের ছেলে। আর নিহত জালেমন বেগম মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবুল কালাম আজাদ মিঠুর মা। তিনি ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শাহ আলম ও তার সহযোগী সজীব—উভয়েই স্থানীয়ভাবে এলাকার জামাই হিসেবে পরিচিত। শাহ আলম শোলাকুড়ি এলাকায় ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন এবং সজীব মাঝেমধ্যে সেখানে অপকর্মে অংশ নিতে আসতেন।

পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহ আলম জানান, ঘটনার রাতে তারা দুজনে দীঘিতে মাছ ধরার কথা বলে জালেমন বেগমের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন এবং তাকে মাছ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফাঁকা বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে সঙ্গে থাকা কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় অতর্কিত আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে তারা নিহতের গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুলসহ এক ভরির বেশি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ঘরের মাটির ব্যাংক ভেঙে টাকা লুটে পালিয়ে যান। এর আগেও ওই বাড়ি থেকে ফ্রিজে থাকা মাংস, রাইস কুকার ও কাঁথাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির কথা স্বীকার করেছেন তারা।

সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের শুরুতে কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র বা ক্লু ছিল না। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় উৎস এবং আসামির মোবাইল ফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্টের অস্বাভাবিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে টানা তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও জানান, মামলার অপর অভিযুক্ত সজীব বর্তমানে ময়মনসিংহে একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় কারাগারে আছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হবে। এছাড়া শাহ আলমের স্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত না থাকলেও স্বামীর অপরাধের বিষয়ে অবগত হয়ে আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও অরণখোলা ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ রুবেল।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে মধুপুরের শোলাকুড়ির দীঘিরপাড় এলাকায় নিজ ঘর থেকে বৃদ্ধা জালেমন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র থাকায় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আবুল কালাম আজাদ মিঠু বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।