যশোর শহরের লালদীঘিরপাড়ের মাইকপট্টি মোড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া যশোর জেলাজুড়ে পরিচালনা করা বিশেষ অভিযানে নাশকতা ও অন্যান্য অভিযোগে মোট ৫৭ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার (২ নভেম্বর) যশোর পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ নেতা শেখ শহীদ, ইমরান হোসেন খান বাদল, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন শাহ, সভাপতি সরোয়ার হোসেন সারু, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ হোসেন অভি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ান আলীসহ আরও অনেকে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে থেকে ১৬ জনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১ নভেম্বর ভোর সোয়া ৫টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের ২০০ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী লালদীঘিরপাড় সংলগ্ন মাইকপট্টি মোড়ে জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন এবং সরকারবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যান।

যশোরে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে গোপনে মিছিলটি করা হয়েছিল। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং মিছিলের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ১৬ জনসহ জেলার ৯টি থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে জেলাজুড়ে মোট ৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।