নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৪ নং গড়াডোবা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নয়নমুখী ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো.খালিদ সাইফুল্লাহ।
তিনি বলেন- জনগণের ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করবেন।
এ উপলক্ষে বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ৪নং গড়াডোবা ইউনিয়নের পুবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
৪নং ওয়ার্ড বাসীর উদ্যোগে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র ওয়ার্ডের বিএনপির সমর্থক আব্দুল মজিদ। ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এখলাছ উদ্দীন ভূইয়া ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আহসান হাবিব বাবুলের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ও গড়াডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. খালিদ সাইফুল্লাহ।
মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন- একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জনগণের সমস্যা, অভাব-অভিযোগ ও প্রত্যাশা সরাসরি শুনতে হবে। মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কথা জানতে হবে এবং সেই অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গড়াডোবা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি ওয়ার্ড এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করা, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, যুবসমাজকে কর্মমুখী করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন- তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করতে চান। জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করাই তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করবেন। তরুণ সমাজ একটি এলাকার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি এলাকার বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।সভায় স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন সম্ভাবনা, জনদুর্ভোগ এবং ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
উপস্থিত ব্যক্তিরা এলাকার রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। খালিদ সাইফুল্লাহ উপস্থিত সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এলাকার উন্নয়নে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন- কোনো এলাকার উন্নয়ন এককভাবে সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা।তিনি আরও বলেন, গড়াডোবা ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান। এলাকার মানুষের অধিকার, সম্মান ও ন্যায্য প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে আব্দুর রাশিদ, আব্দুল আউয়াল, মাহবুবুর রহমান রুবেল, আজিজুল হক, আবু বক্কর, যুবদলের সাবেক সভাপতি নাসির আহমেদ, গড়াডোবা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক, হুমায়ুন খান ইঞ্জিল, সুজন খান সুজন, যুবনেতা খায়রুল ইসলাম, গড়াডোবা ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি কলকল, ইউনিয়ন মৎস্যজীবির সাধারণ সম্পাদক বিনোদ মিয়া, ছাত্র নেতা আনোয়ার হোসেন, গোলাম রাব্বিসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, এলাকার সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।