ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের খবরে যা বললেন সাদ্দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বুধবার রাতে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কয়েক ঘণ্টা না যেতেই এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ছাত্র সংগঠনটির এই নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি- এই সরকারেরই আইনগত, গণতান্ত্রিক ও নৈতিক বৈধতা নেই। যাদের নিজেদেরই বৈধতা নেই, তাদের এই হাস্যকর কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চিন্তিত নয়।’

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এই সরকারের হাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী এবং পুলিশের রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। নিজেদের গণহত্যার দায় আমাদের ওপরে চাপানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে।’

ছাত্রলীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘যেই সরকারের বৈধতা নেই, তাদের নিষিদ্ধ করার ঘোষণায় আমাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে না। ছাত্রলীগ তাদের সকল কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’ এ সময় বর্তমান সরকারকে জামায়াত-রাজাকারদের সরকার বলেও আখ্যায়িত করেন তিনি।

এর আগে বৃধবার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হত্যা, নির্যাতন, গণরুমকেন্দ্রিক নিপীড়ন, ছাত্রাবাসে সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ নানাবিধ জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং এই সম্পর্কিত প্রামাণ্য তথ্য দেশের সব প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু সন্ত্রাসী ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অপরাধ আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে।

এতে বলা হয়, যেহেতু ১৫ জুলাই ২০২৪ তারিখ হতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে উন্মত্ত ও বেপরোয়া সশস্ত্র আক্রমণ করে শত শত নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিদের হত্যা করেছে এবং আরও অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে এবং যেহেতু সরকারের নিকট যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে যে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, ধ্বংসাত্মক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ এর ধারা ১৮ এর উপধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল এবং উক্ত আইনের তফসিল-২ এ ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামীয় ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসাবে তালিকাভুক্ত করল। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এদিকে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের ঘোষণায় বুধবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এরই মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল হয়েছে। আজও বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button