

প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে রাজধানীর রায়েরবাগ ইসলামিয়া হাসপাতাল যান তরুণ আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক। তার নমুনা পরীক্ষায় ডেঙ্গুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ ডিসেম্বর আবু বকরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। গত শুক্রবার ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফেরেন। তার মতো অসংখ্য ডেঙ্গু রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এর কোনো তথ্য নেই। এই প্রতিষ্ঠানের মতো রাজধানীতে নিবন্ধিত চার শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেয় না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। তথ্য আদায়ে চিঠি দেওয়া ছাড়া কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেয় না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর মাত্র ৫৯টি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীদের শনাক্ত ও মৃত্যুর তথ্য দিয়ে থাকে। শুধু রাজধানীতে নিবন্ধিত হাসপাতালের সংখ্যা সাড়ে চারশ। বিষয়টিকে নিজেদের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে রোগটি মোকাবিলায় পরিকল্পনা প্রণয়নেও ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।
প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে রাজধানীর রায়েরবাগ ইসলামিয়া হাসপাতাল যান তরুণ আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক। তার নমুনা পরীক্ষায় ডেঙ্গুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ ডিসেম্বর আবু বকরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। গত শুক্রবার ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফেরেন। তার মতো অসংখ্য ডেঙ্গু রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এর কোনো তথ্য নেই। এই প্রতিষ্ঠানের মতো রাজধানীতে নিবন্ধিত চার শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেয় না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। তথ্য আদায়ে চিঠি দেওয়া ছাড়া কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেয় না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর মাত্র ৫৯টি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীদের শনাক্ত ও মৃত্যুর তথ্য দিয়ে থাকে। শুধু রাজধানীতে নিবন্ধিত হাসপাতালের সংখ্যা সাড়ে চারশ। বিষয়টিকে নিজেদের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে রোগটি মোকাবিলায় পরিকল্পনা প্রণয়নেও ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবু জাফর ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা ও রোগীর চিকিৎসা হয়—এমন প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যভান্ডারে যুক্ত করা হবে। কিন্তু সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। ২০১৯ সাল থেকেই প্রতি বছর স্বাস্থ্য প্রশাসন এই আশ্বাস দিয়ে থাকলেও সেটি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যারা ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা করেন, তাদের সবার প্রকৃত তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছায় না। সব তথ্য একসঙ্গে যুক্ত করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের আমরা বারবার চিঠি দিই। বিভিন্ন ফোরামে আলোচনায়ও তথ্য দিতে বলে থাকি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো জনবল সংকটের অজুহাতে তথ্য দেয় না। এতে দেশে ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যা তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। একটি অ্যাপ (ডেঙ্গু ট্র্যাকার অ্যাপলিকেশন) তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপটি শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে। এর ফলে ল্যাবে পরীক্ষাকৃত ডেঙ্গু রোগীর ফল সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীর ১৩টি সরকারি ও ৫৯টি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য রয়েছে। হাসপাতালগুলো হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিজিবি হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (ঢাকা), কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সাভার), সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতাল এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতাল।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল, ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতাল, কল্যাণপুর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্কয়ার হাসপাতাল, কমফোর্ট নার্সিং, পান্থপথ শমরিতা হাসপাতাল, মিরপুর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ল্যাবএইড হাসপাতাল, সেন্ট্রাল হাসপাতাল, হাই কেয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল, গ্রিন লাইফ মেডিকেল হাসপাতাল, কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল, মুগদা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড, খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতাল, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এভারকেয়ার হাসপাতাল, আদ-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিআরবি হসপিটালস লিমিটেড, আজগর আলী হাসপাতাল, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সালাউদ্দিন হাসপাতাল, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মেডিকেল কলজে ফর ওমেন্স অ্যান্ড হসপিটাল, ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আইচি হসপিটালস লিমিটেড, মনোয়ারা হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড, জয়নুল হক শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এ এম জেড হাসপাতাল, লাইফ অ্যান্ড কেয়ার হাসপাতাল, ফরাজী জেনারেল হাসপাতাল, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, এক্সিম ব্যাংক হাসপাতাল, আল মানার হাসপাতাল, ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন মেডিকেল সেন্টার লিমিটেড, বসুন্ধরা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পোস্তগোলা আদ-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক হাসপাতাল, মিরপুর আলোক হাসপাতাল, সিটি হাসপাতাল, ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার ও জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, মার্কস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিলেনিয়াম স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মহাখালী কলেরা (আইসিডিডিআর,বি) হাসপাতাল এবং ইনসাফ বারাকা কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ডেঙ্গু-সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে। এর বাইরে রাজধানীতে কয়েকশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও সেইসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সরকারি হিসাবে ৯৮ হাজার ৮৭৭ জনের নমুনায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৫৪৮ জন রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬ হাজার ৬৬২ জন। এখনো হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৬৬৭ জন।
বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ডেঙ্গু একটি জাতীয় সমস্যা। এই রোগ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। প্রকৃত রোগীর সংখ্যা সরকারের নথিতে না থাকলে রোগটি নির্মূলে কাজ করাও কঠিন। এজন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকেও সদস্যদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে তথ্য দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়ে থাকি। আমরা আবারও সদস্যদের বলব, তারা যেন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার তথ্য অধিদপ্তরকে জানায়।
দেশের সবশেষ অবস্থা: গতকাল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে ৩৭৩ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১২৪ জন এবং বাকিরা ঢাকার বাইরের। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪৮৩ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৮ হাজার ৮৭৭ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৬২ জন। মারা গেছেন ৫৪৮ জন।




