পৌষ সংক্রান্তিতে নোয়াখালীতে জমে উঠেছে মাছের মেলা

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী : নোয়াখালীর সেনবাগে পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে জমে উঠেছে মাছের মেলা। মাছ প্রেমীদের রসনার তৃপ্তি মেটাতে মেলাজুড়ে এখন নানা জাতের মাছে ভরপুর। দরদাম হাঁকিয়ে শুধুমাত্র কেনার অপেক্ষা। মাছ কিনতে আর দেখতে মেলায় উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের কানকিরহাট বাজারে মাছের মেলায় দেশীয় ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির বড় আকারের মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়।

জানা যায়, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে নোয়াখালীর সেনবাগের কানকিরহাটে তৃতীয়বারের মতো দিনব্যাপী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিক্রেতারা তাদের থালায় সাজিয়েছেন বড় আকারের রুই, চিতল, কাতল, মৃগেল, কালবাউশ, গ্রাস কার্প, বোয়াল, পাবদা, শোল, গজার, তেলাপিয়া, আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বাজারে সর্বোচ্চ ১৩ কেজি ওজনের কাতল, রুই, বোয়াল, চিতল, কার্প, আইড় মাছ উঠেছে। এছাড়া পুটি, চিংড়ি, কৈ, চাপিলা, চান্দা মাছ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০ জন বিক্রেতা অংশ নিয়েছেন মাছের মেলায়। বড় বড় সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে দেশীয় নানা প্রজাতির ছোট মাছও নিয়ে এসেছেন। বেচাকেনাও চলে ব্যাপক। প্রত্যেকটি দোকানের সামনে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। মানুষজন মাছের দাম হাঁকাছেন।

মেলায় মাছ কিনতে আসা ইলিয়াস হোসেন বলেন, পৌষ সংক্রান্তিতে আমাদের সবার বাসায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু পিঠাপুলি। তার সঙ্গে খাওয়ার জন্য বাজার থেকে বড় আকারের পছন্দের মাছ পেলে দারুণ হবে। আমাদের নোয়াখালীতে একমাত্র এখানেই মাছের মেলা হয়। এছাড়া আর কোথাও এত বিশাল করে মাছ কেনাবেচা হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার আহমেদ বলেন, নোয়াখালীতে তৃতীয়বারের মতো এই মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হলো। দেশীয় ও সামুদ্রিক মাছের জন্য এটা বিশাল আয়োজন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসেছেন। নারী পুরুষ দামাদামি করে প্রতিযোগিতা করে মাছ কিনছেন। আয়োজকরা প্রতিবছর আয়োজন করলে ভালো হবে।

মাছ বিক্রেতা আব্দুজ জাহের বলেন, গত বছর মাছের বাজারে এই মেলা হয়েছে এবার বিদ্যালয়ের মাঠে বড় আকারে হচ্ছে। তাই এ বছর ব্যবসা বেশ ভালো। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা এবার অনেক বেশি। চট্টগ্রাম, শরীয়তপুর, ঢাকা, ফেনী থেকেও মাছ এসেছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ প্রজাতির বঙ্গপসাগর ও মেঘনা নদীর মাছও এখানে আছে।

মাছের মেলার আয়োজক মো. ওমর ফারুক বলেন, মাঘ মাসের ১ তারিখ উপলক্ষে তৃতীয়বারের মতো এ মাছের মেলার আয়োজন হলো। রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১০০ মণ মাছ বিক্রি হবে। প্রকারভেদে এসব মাছের দাম ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা হবে। আশাকরি সব মাছ বিক্রি হয়ে যাবে। আগামীতেও এই মেলা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই আয়োজক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button