সব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি গোলাম পরওয়ারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশের সব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা রয়েছে। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করুন। দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’ থেকে তিনি এই দাবি জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের সময়ে একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই সরকার পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জুলাই বিপ্লব ও তার পরে যতগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে, তার একটিতেও আপনারা অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। এই ব্যর্থতার জবাব আপনাদেরকে দিতে হবে। জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ওসমান হাদী তার ওপরে গুলি চালানোর কয়েক দিন আগে থেকেই বলেছে, তার জীবন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তিনি জুলাই বিপ্লবের একজন সক্রিয় যোদ্ধা। তা সত্ত্বেও কেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো না? হাদীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার জবাব সরকারকে দিতে হবে। এই দায় সরকার কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারে না।

এর আগে বিকেল ৩টায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর গুলির প্রতিবাদে এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশ শুরুর আগেই শহীদ মিনার এলাকায় নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়েছেন। দুপুরের পর থেকেই মঞ্চ গোছানোর কাজ, চেয়ার সাজানো এবং ব্যানার–ফেস্টুন টানানোর মধ্য দিয়ে সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। এ সময় মঞ্চে গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে হামলার প্রতিবাদ এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা হয়।

সমাবেশস্থলে আসা নেতাকর্মীদের অনেকেই হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানান এবং দোষীদের বিচারের দাবি তোলেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদীর মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আজ উন্নত চিকিৎসার জন্য হাদীকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button