
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিবেশী রাষ্ট্র বেলারুশে নিজেদের অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ মোতায়েন করেছে রাশিয়া। বেলারুশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগ বর্তমানে দেশের নির্দিষ্ট এলাকায় কমব্যাট ডিউটি (সক্রিয় দায়িত্ব) পালন শুরু করেছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার বাইরে এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলো।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ক্ষেপণাস্ত্রকে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ওরেশনিক শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিতে (ম্যাক-১০) ছুটতে সক্ষম। বর্তমানে বিশ্বে এমন কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নেই যা এই ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে আটকে দিতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বেলারুশে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ফলে পুরো ইউরোপ এখন রাশিয়ার সরাসরি নিশানায় থাকবে। মধ্যম পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ৫,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। বেলারুশ থেকে এটি ইউরোপের যেকোনো শহর তো বটেই, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেও পৌঁছাতে সক্ষম।
রাশিয়া ও বেলারুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে অরণ্যপথের ভেতর দিয়ে সবুজ নেটে ঢাকা অবস্থায় ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী যান নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সামরিক গোপনীয়তার স্বার্থে বেলারুশের ঠিক কোন জায়গায় এটি মোতায়েন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
পশ্চিমী রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে এমন কিছু দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যা রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। এরই পাল্টা জবাব এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্কবার্তা দিতে রাশিয়া কৌশলগতভাবে বেলারুশে এই পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে।




