

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাদিয়া রহমান মিম (২৭) নামে এক তরুণীর গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মিম পেশায় একজন বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী এবং একটি বারে ড্যান্সার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের রুমমেট নুসরাতকে আটক করেছে গুলশান থানা পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে কালাচাঁদপুর পশ্চিম পাড়ার ক-৮৯ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মুখ ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফ আহমেদ জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তান্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের বড় বোন শাহিদা জানান, ১৬ জানুয়ারি সকালে মিমের সাথে তার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে মিমের মোবাইল বন্ধ থাকায় তিনি ঢাকা আসেন এবং শনিবার রাতে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে মিমের বীভৎস মরদেহ দেখতে পান।
শাহিদা বাদী হয়ে গুলশান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৩৭) দায়ের করেছেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, ১৬ জানুয়ারি দুপুর থেকে ১৭ জানুয়ারি রাত ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।
নিহত মিম টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মৃত শহীদ আলীর মেয়ে। ব্যক্তিগত জীবনে তার দুবার বিয়ে ও বিচ্ছেদ হয়েছে। প্রথম পক্ষে মারিয়া নামে তার ৫ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রুমমেট নুসরাতকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।




