

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
পবিত্র ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়লেও পুরান ঢাকার পাইকারি কাপড়ের মার্কেটগুলোতে এখনো ফেরেনি যাকাতের কাপড়ের চিরচেনা ব্যস্ততা।
প্রতিবছর রমজানের এই সময়ে সদরঘাট ও গুলিস্তানের মার্কেটগুলোতে তিল ধারণের জায়গা না থাকলেও, এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কেনাকাটায় ধুম পড়লেও গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য কেনা যাকাতের কাপড়ের বাজারে চলছে খাঁ খাঁ অবস্থা।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকে যাকাতের কাপড়ের বেচাবিক্রি তুঙ্গে থাকে। আজ ২২ রমজান চললেও বড় লটের ক্রেতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সদরঘাটের শরীফ মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট ও গুলিস্তান খদ্দর মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন।
কেন এই মন্দা? ব্যবসায়ীদের মতে, এবার যাকাতের কাপড় বিক্রিতে ভাটা পড়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে
১. নির্বাচন পরবর্তী প্রভাব: কিছুদিন আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনের আগে বড় পরিসরে দান-খয়রাত ও কাপড় বিতরণ করলেও, নির্বাচনের পর এখন তাদের সেই আগ্রহ নেই বললেই চলে। ২. মূল্যবৃদ্ধি: গত বছরের তুলনায় শাড়ি ও লুঙ্গির দাম পিস প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা ক্রেতা লিয়াকত মিয়া জানান, গতবার যে লুঙ্গি ৩০০ টাকায় কিনেছেন, এবার তা ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধ্যের মধ্যে না হওয়ায় অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন। ৩. নগদ অর্থ প্রদানের প্রবণতা: অনেক বিত্তবান এখন কাপড়ের ঝামেলায় না গিয়ে সরাসরি গরিবদের নগদ অর্থ দিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে কাপড়ের বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
পীর ইয়ামেনি মার্কেটের বিক্রেতারা বলছেন, “নির্বাচন যদি ঈদের পরে হতো, তবে হয়তো বিক্রির চিত্র ভিন্ন হতো। এখন দিনে দুই-চারজন ক্রেতা পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।” সব মিলিয়ে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও ক্রেতা সংকটে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।




