

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: রাজধানীর উন্নয়ন ও পরিকল্পনার অভিভাবক সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং নাগরিক সেবার দায়িত্বে থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মধ্যে নজিরবিহীন সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতির বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজউকের মালিকানাধীন জমি সিটি করপোরেশন কর্তৃক ‘লিজ’ দেওয়ার ফলে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে অসংখ্য ভুক্তভোগী।
অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের মালিকানাধীন বিভিন্ন খালি জায়গা ও জলাশয় সংলগ্ন জমি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছিল ডিএনসিসি। কিন্তু সিটি করপোরেশনের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী চক্র এসব জমিকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে প্রচার করে সাধারণ মানুষের কাছে লিজ দেয়। সরকারি সংস্থার সিল-স্বাক্ষর দেখে সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করে জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিনিয়োগ করেছিলেন। বিনিময়ে একটি অসাধু চক্র হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা।
বর্তমানে রাজউক তাদের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে নেমেছে। সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে—”রাজউকের জমি অন্য কোনো সংস্থার লিজ দেওয়ার কোনো আইনি অধিকার নেই।”
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোড খালপাড়ে এলাকায় রাজউক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলেছে সিটি করপোরেশন থেকে লিজ নেওয়া জমিতে গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকানপাট ও স্থাপনা। এতে মুহূর্তেই ধুলোয় মিশে গেছে সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন ও পুঁজি। উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনার মালিকদের ক্ষোভের শেষ নেই।আশরাফুল নামে এক ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, তারা ডিএনসিসির বৈধ কাগজপত্র দেখেই জমি লিজ নিয়েছিলেন। এখন কেন লিজ বাতিল হবে। বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় সিটি করপোরেশন থেকে কোনো সহায়তা বা সদুত্তর মেলেনি। লিজের টাকা ফেরত পাওয়া বা পুনর্বাসনের কোনো নিশ্চয়তা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
রাফসান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, আমরা সিটি কর্পোরেশন থেকে লিজ নিয়েছি। এখন রাজউক এসে স্থাপনা উচ্ছেদ করছে। আমরা লিজ নেওয়ার কাগজপত্র দেখালে রাজক কর্তৃপক্ষ বলছে, লিজ এর মেয়াদ শেষ হয়েগেছে।
সরকারের দুটি বৃহৎ সংস্থার মধ্যে এমন আকাশ-পাতাল দূরত্বের কারণে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল সমন্বয়হীনতা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত ‘লিজ বাণিজ্য’। সিটি করপোরেশনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সিন্ডিকেট রাজউকের জমিকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে।
এই ভয়াবহ সংকট নিরসনে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এই লিজ বাণিজ্যের পেছনে জড়িত প্রভাবশালী মহল ও অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। যেহেতু মানুষ সরকারি কাগজের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেছিল, তাই তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন সাধারণ মানুষ এমন প্রতারণার শিকার না হয়, সেজন্য রাজউক ও ডিএনসিসির মধ্যে স্বচ্ছ ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি করতে হবে।
এই বিষয়ে রাজউক এর অঞ্চল-এর অথরাইজড শেখ মোহাম্মদ এহসানুল ইমাম বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সরকারের সকল সংস্থার সাথে সম্বয় করে কাজ করতে। সামনের দিকে এই সমন্বয়হীনতা থাকবে না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি এই দুই সংস্থার দ্বন্দ্বের দ্রুত অবসান না ঘটলে এবং অপরাধীদের শাস্তি না দিলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে।




