

সংস্থাটির মতে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং শিশু নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। আসক-এর পক্ষ থেকে শিশুটির বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।
সেলিনা আক্তার বলেন, আমরা আসলে এই নিউজটা গত কয়েকদিন ধরে দেখছি। আমরা নিউজটা পত্রিকা মারফত দেখি। আমাদের অফিস খুব কনসার্ন। যেহেতু মেয়েটা একদমই মাইনর, ১১ বছর মেয়েটার বয়স, তার মধ্যে মেয়েটা অন্তঃসত্ত্বা। এই বিষয়টা নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র খুব উদ্বেগ প্রকাশ করে আমরা এটা একটা প্রতিবাদও পত্রিকায় দিয়েছি। আমরা যেটা ভাবলাম, কারণ মেয়েটা তো নাবালিকা, ওর শারীরিক অবস্থা, ওদের নিরাপত্তা, তারপর একটা মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য আমরা আসছি বিশেষত। তার পাশাপাশি এখানকার পরিস্থিতি হলো মামলার বিষয়টা আমরা একটু দেখবো, কথা বলবো পুলিশের সাথে।
সারাদেশে যেভাবে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে, পুরা বিষয়টা নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তার মধ্যে এই মেয়েটার বিষয়টা একটু ভিন্ন কারণ ওর বয়স মাত্র ১১। তার দেহে আরেকটা মানুষের জন্ম, এটা আসলে আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। যে ঘটনাটা ঘটিয়েছে, আমরা চাই তার একদম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এবং তার স্পিডি ট্রায়াল (Speedy Trial) হোক। কোনোভাবে যেন যার দ্বারাই হোক না কেন, আসামি যেন পার না পেয়ে যায়, এটা আমরা একদম জোরালোভাবে বলছি। কারণ, এরকম ইদানীং আরও দেখা যাচ্ছে যে এই বয়সী মেয়েরা অনেক ধর্ষণের শিকারহচ্ছে। একটা মেয়ে মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে তার দেহে আরেকটা মানুষের জন্ম হচ্ছে, এটা আমরা আইন ও সালিশ কেন্দ্র কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা, পাশাপাশি এই পরিবারের যিনি বাদী, ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয় আর মামলার যেন সঠিক বিচার তারা পায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা পাশে থাকবো। নিশ্চিত তো শুধু আইন ও সালিশ কেন্দ্র একা দিতে পারবে না, পুরা প্রশাসনকে থাকতে হবে। কারণ আইন ও সালিশ কেন্দ্র সাথে একটা সহযোগিতা দিতে পারবে, কিন্তু প্রশাসনের অনেক হাত আছে এখানে, ডাক্তারের অনেক হাত আছে। মানে একটা মামলার সাথে একটা পুরা টিম কাজ করে। সেই টিমটা যেন একদম অথেনটিকভাবে, সততার সাথে কাজ করে যায় যাতে অপরাধী কোনোভাবে এখান থেকে পার না পায়। আমরা এটাই প্রশাসনকেও বলছি, তাদেরও আহ্বান করছি। আমরা এটা নিয়ে পত্রিকায় অলরেডি উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছি। এই মেয়েটার পরবর্তীতে কী হবে? ১১ বছরের একটা মেয়ে, তার দেহে আরেকটা সন্তান জন্ম নিচ্ছে, এই মেয়েটার ভবিষ্যৎ কী? এ বিষয়টাও প্রশাসনের নজরে আনা উচিত।
এইসব ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিকটিম আর্থিকভাবে দুর্বল বা ওত প্রভাবশালী না। প্রভাবশালী মহল থেকে এক ধরনের প্রেসার তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে মামলার মোড় অন্য দিকে টার্ন করে। এরকম কোনো ভয় বা আশঙ্কা আপনাদের আছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে কিন্তু একটা প্রভাবশালী হাত থাকে। তারা মামলাটাকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করে প্রথমত। মামলা ফাইল হয়ে গেলেও তাদের একটা হাত থাকে বিভিন্নভাবে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার। আমরা চাই সেটা যেন কোনোভাবেই এখানে ঢুকতে না পারে। প্রভাবশালীরা তো প্রভাবশালীই। আপনি যেটা বলছেন ওরা আর্থিকভাবে দুর্বল, সেটা আমরা বুঝতেই পারছি। সেখানে প্রভাবশালীর কোনো হাত যেন না আসে সেটা মামলার বাদী, প্রশাসন এবং ডাক্তার, পুরা টিমকে অথেনটিকভাবে কাজ করতে হবে।
আমরা রেগুলার এটার সাথে আপডেটে থাকব, টাচে থাকব। প্রশাসনের ভূমিকা কিন্তু আকাশে চাঁদ ওঠার মতো সবাই দেখতে পায়। প্রশাসন যদি শক্ত থাকে এখানে কারো হাত নেই যে প্রভাবশালী হাত ঢুকতে পারে। তার মানসিক অবস্থা ভালো না। ১১ বছরের বাচ্চা তো, আমি ওর সাথে কথা বলার সাহসই পাইনি যে কী বলে কথা বলব। ওর এখন রক্তস্বল্পতা কাজ করছে আর ও রাতে ঘুমাতে পারছে না। স্বাভাবিকভাবেই ওর দেহে আরেকটা দেহ বড় হচ্ছে, ও তো বাচ্চা, ওর শরীর তো এটার জন্য রেডি না। ওর কষ্ট দেখে আমারও খারাপ লেগেছে।
ইনভেস্টিগেটর তাওহীদ আহমেদ রানা বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আমাদের আহ্বান থাকবে যেন কোনো ইনফ্লুয়েন্সে এটা বিলম্বিত না হয়। মামলার গতিপথ যেন পরিবর্তন না হয়। আমরা চাই প্রশাসনকে ফ্রিডম দেওয়া হোক যাতে তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে। আমরাও চাই ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’র পক্ষ থেকে আমরা চাচ্ছি যে দ্রুত যেন মামলার রিপোর্টটা হয়, জেনুইনলি যেন হয় আর কোন প্রভাবশালী মহল যেন এটাতে ঢুকতে না পারে। সেটা নিয়ে আপনারা কাজ করছেন সাময়িকভাবে।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর (৩৮) উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নে ‘হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠা করে নিজেই পরিচালনা করতেন। গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে তিনি ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং ঘটনা কাউকে বললে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখা দিলে ১৮ এপ্রিল ক্লিনিকে পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় সে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন।




