চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)-তে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘ।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বন্দরের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সামনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের সহসভাপতি মকবুল আহমদ ভূঁইয়া এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

স্মারকলিপিতে শ্রমিক নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। পতেঙ্গা ও লালদিয়ার চর টার্মিনালে ইতোমধ্যে বিদেশি অপারেটরদের যুক্ত করা হয়েছে। তবে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হলে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। নতুন অবকাঠামো (যেমন বে-টার্মিনাল বা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর)-তে বিদেশি বিনিয়োগকে তারা স্বাগত জানালেও বিদ্যমান কার্যকর টার্মিনালগুলো দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখার জোর দাবি জানান।

দাবিসমূহের মূল দিকগুলো:

  • এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করা।

  • বিদেশি পরিচালিত টার্মিনালগুলোতে অন্তত ২০ শতাংশ দক্ষতা সম্পন্ন বন্দর কর্মী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা।

  • এনসিটিতে ডকুমেন্টেশন, কালেকশন ও আনস্টাফিং কাজ বন্দরের নিজস্ব অধীনে রাখা।

  • অনুমোদিত উৎসাহ বোনাস, পোর্ট অ্যালাউন্স, ঝুঁকি ভাতা ও গৃহনির্মাণ ঋণ দ্রুত বাস্তবায়ন।

  • চট্টগ্রাম বন্দরে দ্রুত সিবিএ নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং শূন্য পদে নিয়োগ দান।

সমাবেশে বন্দর থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।