শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যার আসামিদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "নাটোরের পুলিশ প্রশাসন যদি বাবু হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারে, তবে নাটোরে তাদের থাকার বা চাকরি করার কোনো অধিকার নেই।"
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবুর ১৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্মরণসভায় প্রধান বক্তা নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল আজিজ বলেন, জাতীয় সংসদে গিয়ে সানাউল্লাহ নূর বাবু, আলম, গামা, বাসার ও মবিদুল হত্যার বিষয়গুলো তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন এবং এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানাবেন।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. রহিম নেওয়াজ এবং বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী মহুয়া নূর কচি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ আশরাফ আলী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্ত টেনে প্রধানমন্ত্রী স্বল্প সময়ে বিচারের আশ্বাস ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, আগামী বছরের স্মরণসভার আগেই যেন সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়।
বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ এম. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সরদার মো. রফিকুল ইসলাম, শামসুল আলম রনি ও এবিএম ইকবাল হোসেন রাজু।
স্মরণসভায় বড়াইগ্রাম উপজেলা, বনপাড়া পৌরসভা ও নাটোর জেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সানাউল্লাহ নূর বাবুর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবন স্মরণ করার পাশাপাশি দীর্ঘ ১৬ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবু ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি। ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর বনপাড়ায় এক রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে সন্ত্রাসী হামলায় তিনি নির্মমভাবে নিহত হন।