ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর চরম ভাঙনের মুখে পড়েছে বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া এবং গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগর গ্রাম। গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নদীভাঙনে ইতোমধ্যে দুটি গ্রামের প্রায় ১১০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে চরখোলাবাড়িয়া গ্রামের প্রায় ৩০০টি এবং দিগনগর গ্রামের ২০০টিরও বেশি পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভাঙন ত্বরান্বিত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনবিডিসি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা, দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি সাব পোস্ট অফিস, একাধিক মসজিদ ও গোরস্থানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সীমানা থেকে নদী মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত নদী তীর সংরক্ষণে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে মানচিত্র থেকে গ্রাম দুটি চিরতরে হারিয়ে যাবে।
ভাঙন রোধ ও তীর সংরক্ষণের দাবিতে এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও গত তিন মাসে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বাসিন্দারা। তবে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, নদীর বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নজরে রয়েছে এবং মধুমতি নদীর পানি কমলে পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।