মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোর্টে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে একটি পরিবারকে একঘরে করে রাখা এবং তাদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল মোল্লার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্বৈরাচারী শাসনের সময় যুবলীগ পরিচয়ে প্রভাব খাটানো উজ্জ্বল মোল্লা বর্তমানে বিএনপি নেতা হিসেবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অপপ্রচার, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানুষের জমি দখল করে আসছেন।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, খরশুর ৬ নং মৌজার আরএস ১০১৪ নং খতিয়ানের ৮০ শতাংশ জমির মধ্যে ক্রয়সূত্রে ৪৪ শতাংশের মালিক মোহাম্মদ হিরো ও তার ওয়ারিশান ফেরদৌস নাসির গং। সেই ৪৪ শতাংশ জমি থেকে স্থানীয় বাবুল ফকিরের কাছে ১২ শতক বিক্রি করা হলে বাকি জমিতে বালু ভরাট করতে বাধা দেন উজ্জ্বল মোল্লা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ‘গিরিনগর জোনাকি সংসদ ক্লাবের’ মাঠের নাম ভাঙিয়ে জোরপূর্বক ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ফেরদৌসদের জমির সীমানা কেটে ক্লাবের মাঠের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন উজ্জ্বল ও তার সহযোগীরা। স্থানীয় ভূমি সহকারী কমিশনার সরেজমিন পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসলেও কোনো সমাধান হয়নি।

জমি কম মূল্যে বিক্রি না করায় এবং বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দেওয়ায় ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন গত ১২ সেপ্টেম্বর সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৫৬১) করেন। জিডির পর উজ্জ্বল মোল্লা ও তার সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগীরা জানান, জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় গত ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় গিরিনগর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের একঘরে করার কথা জানানো হয় এবং গ্রামবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে ভুয়া প্রমাণের অপচেষ্টা চালানো হয়।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা উজ্জ্বল মোল্লা বিষয়টিকে ব্যক্তিগত নয় দাবি করে জানান, এটি এলাকাবাসীর স্বার্থে ও জোনাকি সংসদের জমি হিসেবেই দখলে নেওয়া হয়েছে, যদিও এ সপক্ষে তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন জোরপূর্বক জমি দখল ও একঘরে করার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি মৌখিকভাবে তারা জেনেছেন এবং আদালতে মামলা রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।