সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক হামলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। নিজ দেশের জনগণের সম্ভাব্য ক্ষোভ ও অসন্তোষের আশঙ্কায় তিনি এতে রাজি হননি।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু সৌদিকে সহায়তা করার অংশ হিসেবে হুথিদের ওপর যৌথ হামলার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। যার মূল লক্ষ্য ছিল রিয়াদের সঙ্গে তেল আবিবের দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ সুগম করা। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া এবং চরম অসন্তোষের ভয়ে সৌদির যুবরাজ এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম চুক্তি’-র মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ইসরায়েল। তবে আঞ্চলিক প্রভাব ও গুরুত্বের কারণে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলা।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের প্রক্রিয়া বেশ বহুদূর এগিয়েছিল। কিন্তু ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় নতুন করে সংঘাত শুরুর পর সেই উদ্যোগ সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে যায়। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও গণহত্যার পর রিয়াদ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়— স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট পথরেখা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়।