চট্টগ্রামে এবার শারদীয় দুর্গাপূজায় নতুন করে প্রায় ৪০০টি পূজামণ্ডপ যুক্ত হয়েছে। বড় এই উৎসবকে ঘিরে নিছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন ১২ হাজার আনসার সদস্য এবং পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।

শুক্রবার থেকে জেলার সব মণ্ডপে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হবে। বোয়ালখালীতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

পরিদর্শনকালে বোয়ালখালীর বীণাপাণি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গাকে অন্নপূর্ণা রূপে উপস্থাপনের ব্যতিক্রমী সামাজিক ভাবনার প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। অন্ন ও প্রাচুর্যের বার্তা নিয়ে মানুষের অভাব-অনটন দূর করার থিমে সাজানো মণ্ডপটিতে প্রতিদিনের দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। এর আগে তিনি ২৫০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী মেধসমুনি আশ্রমের পূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। জেলা প্রশাসক জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারা দেশে গতবারের চেয়ে ১ হাজার ৫০০টি এবং শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ৪০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে, যেখানে সরকারি সহায়তাও বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নগরের জেমসন হলে পূজার আয়োজনে অংশ নিতে চট্টগ্রাম সফর করবেন বলেও তিনি জানান।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, উৎসবকে কেন্দ্র করে গুজব, ভুয়া সংবাদ, অপপ্রচার কিংবা সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের ভ্রাম্যমাণ টহল এবং সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং সূর্যাস্তের আগেই প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সম্মিলিত সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।