নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলা ও রামদার কোপে গুরুতর আহত পৌর ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম (২৩) অবশেষে মারা গেছেন। ঘটনার ১২ দিন পর ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত শাকিল ইসলাম নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই চাঁচকৈড় বাজারে তার হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন শাকিল। পথিমধ্যে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে পৌঁছালে হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোড়ে এবং পরে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সুমন রহমান জানান, শহীদা জলিল স্কুলের কাছাকাছি এলাকায় পরপর দুটি গুলির শব্দ শোনার পর তারা এগিয়ে যান। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় শাকিলকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
নিহতের পারিবারিক ও চিকিৎসকদের সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় নেওয়ার পর শাকিলের শরীরে একাধিক অপারেশন করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পিজি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং সোমবার রাতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর গত ১৯ অক্টোবর নিহতের পিতা রবিউল মিস্ত্রি বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, নিহতের পিতার দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ। তিনি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।