সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি ও মিছিল বের করাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের থানা ভবনের সামনের সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষ পৃথক মিছিল বের করে। মিছিল দুটি থানা ভবনের সামনের সড়কে মুখোমুখি হলে পথ ছাড়া নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ১০ জন আহত হন।

স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, বিএনপির এক পক্ষে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান ও জুলফিকার চৌধুরী নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অপর পক্ষে রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মালিকের সমর্থকরা।

সংঘর্ষের বিষয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের মিছিলটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন অহেতুক আমাদের মিছিলে বাধা সৃষ্টি করে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের ৩-৪ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।"

অন্যদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুলফিকার চৌধুরী বলেন, "আমরা মিছিল শেষ করে উপজেলা পার্কে সমাবেশ করছিলাম। সে সময় প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে এসে পাল্টা মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দুটি পৃথক মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরই মুলত মারামারি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সূত্রপাত হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।