নিয়োগ বাণিজ্যের নথিপত্র তলব দুদকের, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গড়িমসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্য এবং সাবেক এক পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তবে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে। দফায় দফায় চিঠি দিয়েও মিলছে না প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত সপ্তাহে নথিপত্র চেয়ে অধিদপ্তরে তাগিদপত্র পাঠিয়েছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে অন্তত দুই বার চিঠি দেওয়া হলেও অধিদপ্তর থেকে সাড়া মেলেনি।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাবেক পরিচালক ডা. মো. শামিউল ইসলাম সাদীর বিরুদ্ধে বদলির আগমুহূর্তে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এই তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জরুরি ভিত্তিতে চাওয়া হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা পাঠাতে কালক্ষেপণ করছে, যার ফলে থমকে আছে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া।

দুদকের চাহিদা করা নথিপত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২৪ সালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগের ১৬১ জন পরীক্ষার্থীর আবেদনপত্র। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার হাজিরা শিট এবং মূল্যায়িত উত্তরপত্র। ভাইভা পরীক্ষার হাজিরা শিট, প্রাপ্ত নম্বর এবং চূড়ান্ত ফল শিট। নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়ে থাকলে তার প্রতিবেদন।

অভিযোগ অনুযায়ী, করোনাকালে জরুরি ভিত্তিতে ৮৮৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ১৮০০ জন মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। শুরুতে প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে ডা. শামিউল ইসলাম সাদীর নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

২০২৩ সালে ৩০ জন টেকনোলজিস্টকে নিয়োগের কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কোনো পরীক্ষা ছাড়াই বিশেষ ব্যবস্থায় ১৪৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানেও বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তৎকালীন উপপরিচালক আ ফ ম আখতার হোসেন ও ডা. সাদীর এই সিন্ডিকেট বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি বাণিজ্যেও জড়িত ছিল বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নিয়োগের নামে প্রতিটি পদের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। টাকা দিয়েও চাকরি না পেয়ে ফেরত চাইলে অনেককে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিশাল দুর্নীতির জাল উন্মোচনে কাজ করছে দুদক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button