

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। একইসঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে তাদের দীর্ঘদিনের ‘ইসরায়েল প্রথম’ নীতি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ঘালিবাফ বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্র-ইরান) যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইসরায়েল প্রথম’ পররাষ্ট্রনীতিও ত্যাগ করা উচিত ওয়াশিংটনের।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি মূলত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার অটল সংগ্রামের ওপর নির্ভর করবে। মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ‘প্রতিরোধী পক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “যুদ্ধ হোক কিংবা যুদ্ধবিরতি— হিজবুল্লা, হামাস, হুথি এবং ইরাকি মিলিশিয়ারা সবাই এক-আত্মা।”
২০২৬ সালের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের জেরে দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। এর ঠিক দুই দিন পর ২ মার্চ লেবাননেও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৬৭ জন নিহত এবং সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে এই বিরতির মধ্যেও লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেহরান।
ঘালিবাফের এই মন্তব্য মূলত লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে চলমান সংঘাত থামানোর জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।




