ইসলামের দৃষ্টিতে সমকামিতা

✍️মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী।

★المثلية الجنسية في الإسلام….

★সমকামিতা এর পরিচয়:-

ক. আভিধানিক অর্থ :
১. আরবি ভাষায় اَللَوَاَطَةُ এর অর্থ- লুতজাতির সমকামিতামূলক কর্ম বিশেষ।

২. اَلْمُعْجَمُ الْوَسِيطُ গ্রন্থকার এ কাজকে مِنَ الشَّدُوْزِ الْجِنْسِيِّ বলে উল্লেখ করেছেন।

৩. ইংরেজিতে এ কাজকে Homosexuality এবং যারা এ ধরনের কাজ করে তাদেরকে Lesbian বলে।

খ.পারিভাষিক সংজ্ঞা:
যৌন চাহিদা মেটাতে স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত পুরুষে পুরুষে কিংবা নারীর সাথে নারী শরীয়ত অনুমোদিত পন্থার বিপরীত পন্থায় মেলামেশাকে সমকামিতা বলে।

আল্লামা ইবনে আবেদিন শামী (র) রদ্দুল মুখতারে ইমাম আবু ইউসুফ (র) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা নারী কিংবা পুরুষের পশ্চাদভাগকে সহবাসের জন্য সৃষ্টি করেন নি। তাই এ কাজকে নোংরা ও মস্তিষ্ক বিকৃতি হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

★সমকামিতা এর হুকুম:-

সমকামিতা কঠিন কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এটা যেনা অপেক্ষা মারাত্মক অপরাধ। এটা এমনই জঘন্য কর্ম, যা বিবেক, স্বভাব ও শরীয়াহ পরিপন্থি, পূর্ববর্তী শরীয়ত যা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইসলামি শরীয়তও এটাকে সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

★সমকামিতা এর পরিণাম:-

লাওয়াতাত এমন গর্হিত কাজ, যা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছেন এবং লুত (আ)-এর সম্প্রদায়ের এ অশ্লীল কাজের নিন্দা জানিয়ে বলেন,

اتَأْتُونَ الذكران من العالمين وتدرون ما خلق لكم ربكم من أزواجكم بَلْ أَنتُم قَوْمَ مَا دُونَ

অর্থাৎ, বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সাথে উপগত হও এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে তোমরা বর্জন করে থাক। তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।

এরপর তাদের ওপর কী শাস্তি আরোপিত হয়েছিল তার বর্ণান এসেছে এভাবে,

فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِّنْ سِجِيل منضُودٍ – مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ.

অর্থাৎ, অতঃপর যখন আমার শাস্তির নির্দেশ হলো, আমি ঐ জনপদকে উল্টিয়ে দিলাম এবং তাদের ওপর ক্রমাগত ‘বর্ষণ করলাম প্রস্তর কঙ্কর, যেগুলো আপনার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিলো এবং সে পাথরগুলো জালিমদের থেকে দূরে নয়। হাদিসেও মহানবী (স) এরূপ ব্যক্তির প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। (রুহুল মায়ানী)

সূরা আরাফের ৮১ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,

أَنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمَ مُسْرِفُونَ

অর্থাৎ, তোমরা তো কামবশত পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করছ।

আল্লাহ তায়ালা হযরত লুত (আ)-কে তাদের হেদায়াতের জন্য নিযুক্ত করেন। তিনি স্বজাতিকে সম্বোধন করে বলেন,

أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِّنَ الْعَلَمِينَ

অর্থাৎ, “তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ কর, যা তোমাদের পূর্বে পৃথিবীর কেউ করেনি।” যেনা তথা ব্যভিচার সম্পর্কে কুরআনে কারীম أنه كان فاحش আয়াতে শব্দ আলিফ ও লাম ব্যতিরেকেই ব্যবহার করেছে; কিন্তু সমকামিতার ক্ষেত্রে আলিফ লামসহ الفاحشة বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এ স্বভাব বিরুদ্ধ ব্যভিচার সমস্ত অশ্লীলতার সমাহার এবং যেনার চেয়েও কঠোর অপরাধ।

★পরিশেষে বলবো…
সমকামিতা এমন একটি ঘৃণিত ও জঘণ্য কর্ম যা মানুষকে পশুর চেয়েও নিচে নামিয়ে দেয়। যার শেষ পরিণতি ভয়াবহ জাহান্নাম। এ জাতীয় অপরাধের কারণেই লুত (আ)-এর জনপদে আল্লাহর তাআলা গজব বর্ষণ করেছিলেন,আল্লাহ তাআলা যেন এমন গর্হিত কাজ থেকে আমাদেরকে হেফাজত করেন আমিন!!!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button