বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, কীর্তনখোলা, পান্ডব ও আড়িয়াল খাঁ—এই আটটি নদীর তীব্র ভাঙনে জেলার নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষের জীবন ও জনপদ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একের পর এক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং নতুন করে ঘর বাঁধার জায়গা হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছে।
বিশেষ করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ৮০টি বসতঘর এবং প্রায় ৪০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ও ক্ষদ্রকাঠী এলাকায় সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারিয়ে গেছে। এছাড়া বানারীপাড়া, মুলাদী, হিজলা এবং বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়ীয়া, চরমোনাই ও শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অনেক সময় রাতের আঁধারে আকস্মিক ভাঙন শুরু হওয়ায় বাসিন্দারা জিনিসপত্র বা ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পান না।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ৭১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদ-নদীর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৬০ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন চলছে, যার মধ্যে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকার তীব্রতা অত্যন্ত বেশি। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন এসব সাময়িক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে প্রকল্প অনুমোদন ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা নদীতীরবর্তী মানুষগুলোর প্রতিটি দিনই কাটছে ভিটেমাটি ও শেকড় হারানোর চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে।