বদলি বাণিজ্য বন্ধ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে পদায়নের লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এ কথা জানান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, এর আগে গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী, আগস্টে ২৫৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৩০ জন কর্মকর্তা লটারির মাধ্যমে পদায়ন পেয়েছেন। আজকের প্রক্রিয়ায় মোট ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী লটারির আওতায় আসছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়ের মতো ৩-৪টি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আপাতত পদায়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের যে বদনাম হয়েছিল, আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জায়গায় নিতে চাই।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, লটারি প্রক্রিয়া হলেও মানবিক ও বিশেষ প্রসংগে কারো যুক্তিসঙ্গত প্রয়োজন থাকলে আবেদনের সুযোগ থাকবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজ শেষ পর্যায়ে আনা হয়েছে, এরপর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সংস্কার ও পদায়ন নিয়ে কাজ করা হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি রোধ ও সরকারি জমি উদ্ধারের পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোকে একটি ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সরকারের মেয়াদের মধ্যেই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করা হবে, যাতে কোথায় কতটুকু জমি আছে এবং কতটুকু দখলে বা দখলের বাইরে রয়েছে তার সঠিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

এছাড়া আবাসন বরাদ্দে অনিয়ম বন্ধে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিটাল আবাসন সংক্রান্ত প্রকল্পটি চালু করা হবে। দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে আমরা 'জিরো টলারেন্স' বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছি।”