ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসনের মুখে পড়া সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অনুরোধ জানাতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, হুথিরা ইদানীং খুবই ‘বাজে আচরণ’ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি হয়তো প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে এই দ্বন্দ্বে হস্তক্ষেপ করতে এবং সৌদির স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করতে বলব। আমি অনুরোধ করলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করবেন।”
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে থাকা ত্রিপক্ষীয় প্রটোকল বা 'মক্কা চুক্তি'র আলোকে তুরস্ক ইতোমধ্যে সৌদিকে সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। হুথিদের সঙ্গে বর্তমান সংঘাত নিয়ে সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইরান ইস্যুতে তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইসরায়েলি দৈনিক ‘হারেৎজ’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরেক চমকপ্রদ তথ্য। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মূলত এই সহযোগিতার সুযোগে সৌদির সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ও ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনই ছিল নেতানিয়াহুর লক্ষ্য।
তবে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আসা এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। কূটনৈতিক সূত্রটি জানায়, ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করলে দেশের ভেতরে সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হতে পারে—এমন শঙ্কা থেকেই নেতানিয়াহুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন যুবরাজ সালমান।