যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছায়া তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন, এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এসআরবি জানায়, ১০ অক্টোবর ২৪২টি শূন্যপদে ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে জানা যায়, ওই দিন ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান এবং সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে স্পষ্ট ছবি পাঠান। পরে নূর মোহাম্মদ উত্তর তৈরি করে চক্রের অন্যদের পাঠান, যা বিভিন্ন প্রার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। চক্রের সদস্যরা যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের এক সেট, ৪৮ পাতার ব্যাংক চেক, বিভিন্ন পরীক্ষার ১৯টি প্রবেশপত্র, ১০০ ও ৫০ টাকার ১২০টি স্ট্যাম্প, ২৫টি বিভিন্ন সনদপত্র, ৬টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ৮টি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১১ অক্টোবর এ ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। প্রশ্নফাঁসের মূল উৎস ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।